সামিটের বিরুদ্ধে ২ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগ, ৭ পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা

টুইট ডেস্ক: বিদ্যুৎ খাতের জায়ান্ট সামিট পাওয়ার ও আজিজ খান পরিবারের সাত পরিচালকের বিরুদ্ধে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা কর ফাঁকির অভিযোগ এনেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অভিযোগের অর্থ আদায়ে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সামিট পাওয়ারের বিভিন্ন কোম্পানি থেকে সামিট করপোরেশনে ডিভিডেন্ড স্থানান্তরের ক্ষেত্রে উৎসে কর না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে শুধু ডিভিডেন্ডে উৎসে কর ফাঁকির অভিযোগ প্রায় ৯৬৩ কোটি টাকা।

এ ছাড়া সামিট গ্রুপের আরও তিন প্রতিষ্ঠানের কর নথি পুনঃউন্মোচন করে আয় গোপনসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় ১ হাজার ২০ কোটি টাকার কর ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি এনবিআরের। সব মিলিয়ে কর ফাঁকির অভিযোগের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।

অভিযোগের ভিত্তিতে সামিটের সাত পরিচালক—মোহাম্মদ আজিজ খান, আঞ্জুমান আজিজ খান, আদিবা আজিজ খান, মোহাম্মদ ফয়সাল করিম খান, মোহাম্মদ লতিফ খান, মোহাম্মদ ফরিদ খান ও জাফর উমেদ খানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এনবিআরের দাবি, আয়কর আইনের ১৪৩(৫) ধারা অনুযায়ী একটি কোম্পানি অন্য কোম্পানিকে ডিভিডেন্ড দিলে ২০ শতাংশ উৎসে কর প্রযোজ্য। তবে সামিটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানির আয় করমুক্ত হওয়ায় ডিভিডেন্ডের ওপরও উৎসে কর প্রযোজ্য নয়।

এ নিয়ে এনবিআরের সঙ্গে বিরোধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। গত দুই বছরে এনবিআরের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে ২০টি রিট মামলা করেছে সামিট। এসব মামলার মধ্যে সাতটি উৎসে কর ও জরিমানা এবং ১৩টি কর নথি পুনঃউন্মোচনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে করা হয়েছে।

সামিট করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রচলিত আইন মেনেই কর পরিশোধ করে আসছে। এনবিআরের সঙ্গে কোনো বিরোধ হলে আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়গুলো বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি প্রতিষ্ঠানটি।