পাকিস্তানের যুব কর্মসংস্থান নীতিতে নারীদের ৩৫ শতাংশ কোটা

পাকিস্তানে যুব কর্মসংস্থান নীতির বাস্তবায়ন পর্যালোচনা শাহবাজের। নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রাদেশিক কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব।
বিশ্ব ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরীফ জাতীয় যুব কর্মসংস্থান নীতির বাস্তবায়ন রোডম্যাপের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন। দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে নেওয়া উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইসলামাবাদে জাতীয় যুব কর্মসংস্থান নীতির বাস্তবায়ন রোডম্যাপের অগ্রগতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শাহবাজ শরীফ। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের দক্ষ ও প্রতিভাবান যুবকদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি তরুণদের এমন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করতে হবে, যার চাহিদা দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে রয়েছে।
নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব
শাহবাজ শরীফ যুব কর্মসংস্থান নীতির আওতায় নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নারীদের শ্রমশক্তিতে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
জাতীয় যুব কর্মসংস্থান নীতির আওতায় শ্রমশক্তিতে নারীদের জন্য ৩৫ শতাংশ কোটা রাখার বিষয়টি আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন উদ্যোগ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে স্টার্টআপ খাতের জন্য অন্তত ১০ শতাংশ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রতি মাসে অগ্রগতি পর্যালোচনার নির্দেশ
জাতীয় যুব কর্মসংস্থান নীতির বাস্তবায়ন যাতে গতি না হারায়, সে জন্য প্রতি মাসে নিয়মিত পর্যালোচনা সভা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন।
একই সঙ্গে বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের বিশেষ সুযোগ তৈরির নির্দেশ দেন তিনি। তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা এসব অঞ্চলের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের আওতায় আনাকে নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের সঙ্গে প্রশিক্ষণের সমন্বয়
সভায় জাতীয় ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল ট্রেনিং কমিশন এবং স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস ডেভেলপমেন্ট অথরিটির কার্যক্রমে আনা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে প্রশিক্ষিত যুবকদের দক্ষতা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পখাতের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ধরন পরিবর্তন করা হচ্ছে।
জাতীয় ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল ট্রেনিং কমিশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ অর্জনের সুযোগ এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ভাষা দক্ষতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পাকিস্তানি তরুণদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরির সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।
এক প্ল্যাটফর্মে কর্মসংস্থানের তথ্য
যুব কর্মসংস্থান নীতির বিভিন্ন সুবিধা ও সুযোগ সম্পর্কে তরুণদের জানাতে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি ডিজিটাল ইয়ুথ হাবের কার্যক্রম আরও কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেন। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট তথ্য একটি জায়গায় তরুণদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের ধারণা, তথ্যপ্রাপ্তির জটিলতা কমিয়ে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা গেলে তরুণরা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সহজে খুঁজে নিতে পারবেন।
কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে জোর
জাতীয় যুব কর্মসংস্থান নীতিতে শুধু প্রচলিত চাকরির সুযোগ তৈরিই নয়, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য স্টার্টআপ খাতে নির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার মনে করছে, নতুন ব্যবসা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগে তরুণদের সম্পৃক্ত করা গেলে একদিকে যেমন তাদের স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।
সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জাতীয় যুব কর্মসংস্থান নীতির বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসূচির চেয়ারম্যান রানা মাশহুদ, উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ ইসহাক দার, পরিকল্পনা ও উন্নয়নমন্ত্রী আহসান ইকবালসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তান সরকার জাতীয় যুব কর্মসংস্থান নীতিকে শুধু চাকরি সৃষ্টির কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানো, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে পাকিস্তানি কর্মীদের অবস্থান শক্তিশালী করার একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে এগিয়ে নিতে চাইছে।






