৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ, শিপইয়ার্ডে বিশেষজ্ঞ দল

দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে চার তদন্ত কমিটি, ঢাকায় থেকে যাচ্ছে বিশেষজ্ঞ দল
টুইট প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় তিন দিন পার হলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি। একই সঙ্গে বিস্ফোরক অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন পরিবেশ সংগঠন ও শ্রমিক নেতারা।
তবে বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও বাংলাদেশ মেরিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি বিশেষায়িত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে শিপইয়ার্ড পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সুপারিশ দেবেন।
রোববার বিকেলে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে দুর্ঘটনা ঘটলেও রোববার বিকেল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মামলা করতে থানায় আসেনি। পুলিশ তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। তবে নিহতদের পরিবার মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে বলে জানান তিনি।
এদিকে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় রোববার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তারা দুর্ঘটনার জন্য মালিকপক্ষকে দায়ী করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্তের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিনসহ শ্রমিক নেতারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিল্পের উৎপাদন ও মুনাফার চেয়ে শ্রমিকের জীবনের মূল্য কোনোভাবেই কম হতে পারে না। জাহাজভাঙা শিল্পে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকেও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মালিক ও রাষ্ট্র—উভয়ের দায়িত্ব।
এদিকে দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ড সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শিপইয়ার্ডটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড সূত্র জানায়, রোববার শিল্প মন্ত্রণালয়ের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়া শাখা থেকে তিন সদস্যের আরও একটি বিশেষায়িত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ নিয়ে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মোট চারটি কমিটি গঠন করা হলো।
নতুন কমিটিতে রয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াসির আরাফাত খান, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. শোয়েব আহমেদ এবং ঢাকার বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মোহাম্মদ মেহেদি ইসলাম খান।
এর আগে জেলা প্রশাসন, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং জাহাজভাঙা শিল্প মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকেও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার বলেন, তদন্ত চলাকালে মামলা হওয়ার সুযোগ কম। বর্তমানে চারটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। ঢাকার বিশেষজ্ঞ দল রোববারই সীতাকুণ্ডে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শিপইয়ার্ড সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করাও দুর্ঘটনার পর নেওয়া ব্যবস্থার অংশ বলে জানান তিনি।






