রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় একদিনে নিহত ২৬

পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে একদিনে নিহত ২৬, বাড়ছে বেসামরিক প্রাণহানি
টুইট ডেস্ক: রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গত সোমবার দুই দেশে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রাশিয়ায় ১৫ জন এবং ইউক্রেনে ১১ জন রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক মানুষ। সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধের অন্যতম রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে এ ঘটনাকে দেখা হচ্ছে।
রুশ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল ক্রাসনোদার, বেলগোরোদ ও ক্রিমিয়া অঞ্চল। ক্রাসনোদারের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ জানান, গেলেন্দঝিক জেলার পর্যটনকেন্দ্র আরখিপো-ওসিপোভকায় ড্রোন হামলায় তিন শিশুসহ সাতজন নিহত এবং প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন।
একই দিনে ক্রিমিয়ায় পৃথক হামলায় চারজন নিহত ও দুজন আহত হন। সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলেও ড্রোন হামলায় চারজনের মৃত্যু এবং ১৭ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
অন্যদিকে ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের কৃভি রিহ জেলায় একটি পেট্রোল স্টেশনে রুশ ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন জরুরি সেবাকর্মী এবং তাঁর আট বছর বয়সী সন্তান রয়েছে। হামলার ফলে পেট্রোল স্টেশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
সোমবার রাতেই ইউক্রেনের জাপোরিজ্জিয়া অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রুশ বাহিনী। এতে দুই শিশুসহ আরও আটজন নিহত হন বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
যুদ্ধের শুরুতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। তবে উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের বিলিই কোলোদিয়াজ ও উস্পেনিভকা নামের দুটি বসতি রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
উল্লেখ্য, ক্রিমিয়ার মর্যাদা, মিনস্ক চুক্তি বাস্তবায়ন এবং ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার জেরে ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে চলা এ যুদ্ধে এখনো সংঘাতের অবসানের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে না।






