আর্জেন্টিনার স্কালোনির খোলাচিঠি: ‘ক্ষমা চাই, ট্রফি আনতে পারিনি

বিশ্বকাপ ফাইনাল হারের এক সপ্তাহ পর সমর্থকদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা; দলকে ‘আমার যোদ্ধা’ আখ্যা আর্জেন্টিনা কোচের।
টুইট প্রতিবেদন: ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের এক সপ্তাহ পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন খোলাচিঠি প্রকাশ করেছেন। ইন্সটাগ্রামে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে হারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দলের লড়াইকে ‘আসল ট্রফি’ বলে উল্লেখ করেন।
চিঠির শুরুতেই স্কালোনি লিখেছেন, গত এক সপ্তাহ ছিল অনুভূতির এক মিশেল—দুঃখ-আনন্দ, কান্না-হাসি, উদ্বেগ-স্বস্তি এবং চাপ-শান্তি। সামাজিক মাধ্যমে কিছু লিখতে স্বস্তি না পেলেও সমর্থকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য এটিই সেরা উপায় মনে করেছেন বলে জানান তিনি।
হারের প্রসঙ্গে কোচ বলেন, “শুধু এটুকুই বলতে চাই—দুঃখিত। আরেকটি ট্রফি এনে আপনাদের আনন্দ দিতে পারলাম না। যদি পারতাম, হয়তো কয়েক দিনের জন্য হলেও জীবনের সব কষ্ট ভুলে থাকতে পারতেন।”
দলের প্রতি নিজের আবেগ তুলে ধরে স্কালোনি খেলোয়াড়দের ‘আমার যোদ্ধা’ বলে সম্বোধন করেন। তাদের প্রচেষ্টা, জয়ের ইচ্ছা, হাল না ছাড়া মনোভাব এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়াকেই তিনি প্রকৃত অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেন। তার ভাষায়, “শরীর সাড়া না দিলেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যেই আসল ট্রফি লুকিয়ে আছে।”
সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে স্কালোনি বলেন, যারা দলকে ভেতর থেকে চেনেন না, তাদের কঠোর মন্তব্যও সহ্য করতে হয়েছে। এরপর তিনি কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কর্মী এবং নীরবে কাজ করা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। সমর্থকদের ভালোবাসাকেই তিনি দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
চিঠির শেষে একটি আবেগঘন বার্তায় স্কালোনি লেখেন, “যার একজন আর্জেন্টাইন বন্ধু আছে, তার কাছে যেন এক অমূল্য সম্পদ আছে।”
উল্লেখ্য, ফাইনালের পর স্কালোনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে নিজ শহর পুজাতোতে ফিরে সমর্থকদের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি এবং এই খোলাচিঠির মাধ্যমে তাদের প্রতি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
এদিকে, অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে স্পেন ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নেয়। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা।






