নির্মাণের ছয় বছর পরও তালাবদ্ধ ৩১ কোটি টাকার শিশু হাসপাতাল

জনবল-অনুমোদন ছাড়াই উদ্বোধন, কোটি টাকার অবকাঠামো ও আইসিইউ সরঞ্জাম পড়ে আছে অচল

টুইট ডেস্ক: রংপুরের শিশুদের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রায় ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালটি ছয় বছর পেরিয়েও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। প্রশাসনিক অনুমোদন, প্রয়োজনীয় জনবল ও অর্থ বরাদ্দ ছাড়াই ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জাঁকজমকপূর্ণভাবে হাসপাতালটির উদ্বোধন করা হলেও বাস্তবে সেটি আজও কাগজে-কলমের হাসপাতাল হিসেবেই রয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের মূল ভবনের অধিকাংশ কক্ষ তালাবদ্ধ। বহির্বিভাগে মাত্র ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অথচ ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে নেই ভর্তি সেবা, নেই আইসিইউ, নেই জরুরি বিভাগ, নেই কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা। ফলে চিকিৎসার আশায় আসা শিশুদের শেষ পর্যন্ত ফিরতে হচ্ছে অন্য হাসপাতালে।

হাসপাতালটিতে আগে থেকেই ১০টি আইসিইউ বেডসহ বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু জনবল ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেগুলো বছরের পর বছর ব্যবহারহীন পড়ে আছে। অব্যবহৃত অবস্থায় কোটি টাকার এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা অভিভাবকদের অভিযোগ, জনগণের করের টাকায় নির্মিত হাসপাতালটি উদ্বোধনের পরও সাধারণ মানুষ কোনো সুফল পাচ্ছে না। আধুনিক ভবন থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না থাকায় অসুস্থ শিশুদের নিয়ে বাধ্য হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা অন্যত্র ছুটতে হচ্ছে। তারা দ্রুত হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতা ও জনবল সংকটের কারণেই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হয়নি। অথচ উদ্বোধনের আগে এসব মৌলিক বিষয় নিশ্চিত না করেই হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়েছিল।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক ডা. মো. ওয়াজেদ আলী বলেন, হাসপাতালটি ১০০ শয্যা থেকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রশাসনিক পরিকল্পনা চলছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে রংপুর বিভাগের শিশু চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে হাসপাতালটি।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালটি পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, সারাদেশে অচল পড়ে থাকা এ ধরনের স্বাস্থ্য অবকাঠামো দ্রুত চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের বিষয়ে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশাসনিক অনুমোদন নিশ্চিত না করেই কেন হাসপাতালটির উদ্বোধন করা হয়েছিল? কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকার দায় নেবে কে? রংপুরবাসীর প্রত্যাশা, আর কোনো আশ্বাস নয়—দ্রুত হাসপাতালটির তালা খুলে শিশুদের জন্য পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হোক।