পদত্যাগের পরও যেসব সুবিধা পাবেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন

অবসরভাতা, চিকিৎসাসেবা, কূটনৈতিক পাসপোর্টসহ বহাল থাকছে আইনি সুযোগ-সুবিধা
টুইট ডেস্ক: রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন অবসরভাতা, চিকিৎসাসেবা, কূটনৈতিক পাসপোর্টসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন এবং দ্য প্রেসিডেন্টস (রিমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫ অনুযায়ী এসব সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। বিকেল ৫টা ১ মিনিটে স্পিকার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হিসেবে অন্তত ছয় মাস দায়িত্ব পালন করে পদত্যাগ করলে বা মেয়াদ শেষে অবসর নিলে তিনি আজীবন সর্বশেষ প্রাপ্ত মাসিক বেতনের ৭৫ শতাংশ
হারে অবসরভাতা পাবেন। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হওয়ায় মো. সাহাবুদ্দিন প্রতি মাসে ৯০ হাজার টাকা অবসরভাতা পাওয়ার যোগ্য হবেন।
তবে তিনি চাইলে মাসিক অবসরভাতার পরিবর্তে আনুতোষিক (এককালীন অর্থ) গ্রহণের সুযোগও পাবেন। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কাল অনুযায়ী আনুতোষিকের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
আইনে আরও বলা হয়েছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন সহায়ক কর্মী (অ্যাটেনডেন্ট) এবং সরকার নির্ধারিত দাপ্তরিক ব্যয় পাবেন। পাশাপাশি একজন মন্ত্রীর সমপর্যায়ের চিকিৎসাসুবিধা, সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিনা মূল্যে সরকারি যানবাহন, একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট, সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় অবস্থানের সুবিধা এবং আবাসস্থলে টেলিফোন সংযোগ ও নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত বিল পরিশোধের সুবিধা বহাল থাকবে।
এ ছাড়া তাঁর স্ত্রীও চিকিৎসাসুবিধা, কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় থাকার সুযোগ পাবেন।
তবে আইনে কিছু ক্ষেত্রে এসব সুবিধা বাতিলের বিধানও রয়েছে। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষে যদি তিনি এমন কোনো সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হন, যেখান থেকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে বেতন বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন, অথবা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালতের মাধ্যমে দণ্ডিত হন কিংবা উচ্চ আদালত তাঁকে অসাংবিধানিক বা অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন বলে ঘোষণা দেয়, তাহলে তিনি অবসরভাতাসহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার অধিকার হারাবেন।






