বন্যাদুর্গতদের ঋণের কিস্তি তিন মাস স্থগিতের সিদ্ধান্ত

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের বিশেষ সভায় এনজিওগুলোর প্রতি নির্দেশনা, ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান

বান্দরবান প্রতিনিধি: সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের স্বস্তি দিতে তাদের ঋণের কিস্তি আদায় তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যা-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রম আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৩টায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এনজিও বিষয়ক বিশেষ সভায় এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই।

সভায় জানানো হয়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের তিন মাস কিস্তি পরিশোধ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলোকে অবহিত করা হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি মাঠপর্যায়ে কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল মনসুর, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতন্য রাজবংশী, পরিষদের সদস্য লালজারলম বম, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট উকাথোয়াই মারমা, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি সহকারী পরিদর্শক বাতেন, বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চুসহ সাংবাদিক ও বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক থানজামা লুসাই বলেন, **”যেকোনো চ্যালেঞ্জ এককভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সমন্বিতভাবে কাজ করলে উদ্যোগ সফল হয় এবং জনগণ প্রকৃত উপকার পায়।”**

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের আলোকে তিন মাস কিস্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

সভায় এনজিও প্রতিনিধিরা বন্যাদুর্গতদের জন্য পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় সাংবাদিকরাও ঋণ কার্যক্রম ও ত্রাণ বিতরণ আরও কার্যকর করার বিষয়ে বিভিন্ন মতামত প্রদান করেন।

সভায় জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের কিস্তি আদায় তিন মাস স্থগিতের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এজন্য সভায় তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, এনজিও এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে দ্রুত পুনর্বাসনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পাশাপাশি কিস্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত যেন মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।