বিপৎসীমার কাছাকাছি তিস্তার পানি: খুলে দেওয়া হয়েছে ৪৪ জলকপাট

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে; নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, কৃষিজমি ও বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক। সতর্ক থাকার আহ্বান প্রশাসনের।
নিজস্ব প্রতিবেদক: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তিস্তা অববাহিকার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে অতিরিক্ত পানি নদীতে প্রবাহিত করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিমলা, জলঢাকা এবং আশপাশের চরাঞ্চলের নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে কৃষিজমি, সবজি ক্ষেত এবং আমন ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন তিস্তা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, পানি আরও বাড়লে আমন মৌসুমের বীজতলা ও সবজি খেতের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তারা দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার প্রত্যাশা করছেন।






