আটকের কয়েক ঘণ্টা পর মুক্ত রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

লাঠিচার্জের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, বিরোধীদের পদত্যাগ দাবি—রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নিট (স্নাতক স্তরের মেডিকেল ভর্তি) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুক্তি পেয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা। আটকের সময় রাহুল গান্ধীর নাক দিয়ে রক্তপাতের দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, পুলিশি ধস্তাধস্তির মধ্যেই তিনি আহত হন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন লোক কল্যাণ মার্গের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল থেকেই রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ধরনায় বসেন এবং দীর্ঘ সময় সেখানে থাকার ঘোষণা দেন। পরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবসহ আরও কয়েকজন বিরোধী নেতা সেখানে যোগ দেন। এ সময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে সবাইকে আটক করে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়।

সন্ধ্যার দিকে আটক নেতাদের মুক্তি দেওয়া হয়। পরে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে তাদের খোঁজ নেন। মুক্তির পর রাহুল গান্ধী এক ভিডিও বার্তায় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

বিরোধীদের দাবি

কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করেছে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তির আহ্বান জানিয়েছে।

নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশি হস্তক্ষেপ ও লাঠিচার্জের ঘটনায় সমালোচনা বাড়ছে। বিরোধী দলগুলো একে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরছে।

অন্যদিকে সরকার বলছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পরীক্ষায় অনিয়ম রোধে প্রণীত সাম্প্রতিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২২ জুলাই পর্যন্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও আটক নেতারা মুক্ত হয়েছেন এবং নতুন করে কর্মসূচি দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব উঠেছে, তবে এখনো কোনো সমাধান আসেনি। সার্বিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে দেশজুড়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহল।