নিহত মার্কিন সেনাদের সম্মানে ট্রাম্পের নতুন হামলা

জর্ডানে মার্কিন সেনা নিহতের পর ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এটি ইরানের বিরুদ্ধে টানা কয়েক রাত ধরে পরিচালিত সামরিক অভিযানের ধারাবাহিকতা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতাসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্ধৃতি:
“আমরা তাদের খুব, খুব শক্তভাবে আঘাত করেছি। ইরান আর আগের মতো হুমকি নয়। আমরা হরমুজ নিয়ন্ত্রণ করছি। তারা কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।”
এর আগে শুক্রবার জর্ডানের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন এবং একজন নিখোঁজ হন। আরও কয়েকজন আহত হলেও পরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান। ওয়াশিংটন এই হামলাকে সংঘাতের একটি বড় মোড় হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিহত সেনাদের স্মরণে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক অবকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, মার্কিন হামলায় দেশটির বিভিন্ন সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, নৌপরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলেও উভয় পক্ষ সামরিক অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত।






