বিশ্ববাজারে এক সপ্তাহেই তেলের দাম বাড়ল ১২ শতাংশ

এক সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ; হরমুজ প্রণালি ঘিরে সরবরাহ সংকটে বাড়ছে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)—উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ০৫ ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুড তেলের দাম ১ দশমিক ০৩ ডলার বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৯ দশমিক ৯৮ ডলার হয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক হামলা-পাল্টা হামলার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ **বাব আল-মান্দেব** ঘিরেও উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা আরও গভীর হয়েছে।

ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা চালায়, তবে এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর মাধ্যমে লোহিত সাগরের তেল পরিবহন পথ বন্ধ করার প্রস্তুতি নিতে তেহরানের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বাজার বিশ্লেষক সংস্থা আইজি জানিয়েছে, প্রযুক্তিগতভাবে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতে পারলে অদূর ভবিষ্যতে তা ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের মাঝামাঝি পর্যায়ে স্থিতিশীল হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু জ্বালানি বাজার নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য, পরিবহন ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির ওপরও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্বের বড় তেল পরিবহন রুটগুলোতে অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট মহল।