জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের ক্ষোভের বিস্ফোরণ: রাষ্ট্রপতি

জুলাই শহিদ দিবসে শহিদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যের আহ্বান

টুইট ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দুর্নীতি, গুম-খুন, ভোটাধিকার হরণ, নিপীড়ন এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের মানুষের জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একই সঙ্গে তিনি শহিদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে দল-মত-পথ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। পাশাপাশি আন্দোলনে আহত সাহসী তরুণ-তরুণী, যুবসমাজ এবং শহিদ পরিবারের সদস্যদের প্রতিও সমবেদনা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, সাহস ও আত্মত্যাগের ফসল। এই আত্মত্যাগ রাষ্ট্রের মূল শক্তি যে জনগণ—সেই সত্যকে আরও সুস্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের শাহাদত এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের প্রাণদানের ঘটনা আন্দোলনকে নতুন গতি দেয়। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণে গণঅভ্যুত্থানের বিস্তার ঘটে।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের চেতনা একটি মানবিক, স্বৈরাচারমুক্ত, সমতাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা জোগায়। শহিদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান, তাদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাণীর শেষাংশে রাষ্ট্রপতি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সংগঠনকে জুলাই শহিদ ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি জুলাই শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দিবসটি উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।