অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন: ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা

৫৫ মিনিটে গর্ডনের গোলে লিড নিয়েও শেষ রক্ষা হলো না থ্রি লায়ন্সদের, শেষ মুহূর্তের জাদুতে জয়ী আর্জেন্টিনা।

ক্রীড়া প্রতিবেদক: টান টান উত্তেজনা, রোমাঞ্চ আর শেষ মুহূর্তের জাদুতে আরও একবার ফুটবল বিশ্ব দেখল আর্জেন্টিনার চেনা রূপ। পিছিয়ে পড়েও হার না মানার অদম্য মানসিকতা ধরে রেখে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

আটলান্টার স্টেডিয়ামে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই গ্যালারিতে শুরু হয় আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের বাঁধভাঙা উল্লাস। আগামী ১৯ জুলাই শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির দল।

​প্রথমার্ধে টুখেলের কৌশল ও মেসির ওপর কড়া পাহারা

​ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলের পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট—আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি লিওনেল মেসিকে বোতলবন্দী করে রাখা। প্রথমার্ধে ইংলিশ ডিফেন্ডার ও মিডফিল্ডাররা ডাবল মার্কিং এবং পাসের লেন বন্ধ করে দিয়ে আর্জেন্টিনার ছন্দ পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়। ফলে প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়।

​গর্ডনের গোল এবং ইংল্যান্ডের লিড

​দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুই দলই কিছুটা সাবধানী ফুটবল খেলতে থাকে। তবে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে গ্যালারি কাঁপিয়ে লিড নেয় থ্রি লায়ন্সরা। ডেকলান রাইসের পাস থেকে বল পেয়ে ডান দিক দিয়ে চমৎকার এক ক্রস বাড়ান মরগান রজার্স। আর ছয় গজ বক্সের কিনারা থেকে নিখুঁত টাইমিংয়ে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান নিউক্যাসল ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডন। বিশ্বকাপে এটি তার প্রথম গোল।

​আর্জেন্টিনার আক্রমণ ও একতরফা আধিপত্য

​গোল হজম করার পর যেন খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে ইংল্যান্ড দল নিজেদের বক্সে গুটিয়ে নিলে (লো ব্লক) ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় আর্জেন্টিনার হাতে। পরিসংখ্যান বলছে, ৫৬ মিনিট থেকে নির্ধারিত সময়ের শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বল দখল ছিল অবিশ্বাস্য ৮৮ শতাংশ, যেখানে ইংল্যান্ডের ছিল মাত্র ১২ শতাংশ।

​৬৯ মিনিটে নিকোলাস গনজালেসের হেড এবং ৮০ মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে জর্ডান পিকফোর্ডের দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ের ওপর ভর করে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল ইংল্যান্ড।

​এনজোর রকেট শট ও লাউতারোর জয়সূচক গোল

​যখন মনে হচ্ছিল ইংল্যান্ড ফাইনালের টিকিট পেতে যাচ্ছে, তখনই ম্যাচের ৮৬ মিনিটে দৃশ্যপটে আসেন এনজো ফার্নান্দেজ। কর্নার থেকে ফিরে আসা বল বক্সের বাইরে ফাঁকায় পেয়ে লিওনেল মেসির পাস থেকে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে ডান পায়ের এক বাঁকানো দূরপাল্লার শটে গোল করেন তিনি। পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে বল জালের ওপরের কোণায় জড়ালে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা।

​ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও চলে আর্জেন্টিনার আক্রমণ ভাগ। অতিরিক্ত সময়ে ম্যাক অ্যালিস্টারের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসার পর বল পান মেসি। ডান প্রান্ত দিয়ে মেসির বাড়িয়ে দেওয়া নিখুঁত ও জাদুকরী ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান বদলি হিসেবে নামা লাউতারো মার্তিনেজ। এই গোলের মাধ্যমেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার গল্প।

​পুরো ম্যাচে চেনা ছন্দে না থাকলেও শেষ মুহূর্তে মেসির দুটি জাদুকরী অবদান আরও একবার প্রমাণ করল কেন তিনি ইতিহাসের সেরা। এই অবিশ্বাস্য জয়ের পর এখন আর্জেন্টিনা শিবিরের চোখ স্পেনের বিপক্ষে মহরণ ও টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের দিকে।