৪৮ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে থানচিতে ৪ পর্যটক উদ্ধার

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে থুইসপাড়ায় আটকে পড়েছিলেন চার শিক্ষার্থী-পর্যটক

নিজস্ব প্রতিনিধি (বান্দরবান): বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বৈরী আবহাওয়ার কবলে আটকে পড়া চার শিক্ষার্থী-পর্যটককে ৪৮ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে সফলভাবে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃত চার পর্যটক বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং নিরাপদে থানচিতে ফিরেছেন।

জানা গেছে, গত ৪ জুলাই ঢাকার চার তরুণ পর্যটক—তামিম রায়হান, মাহাদি আল মাহবুব, মারুফ উদ্দিনসহ আরও একজন—বান্দরবানের থানচি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটন স্পট আমিয়াখুম ভ্রমণের উদ্দেশ্যে থুইসপাড়া এলাকায় যান। তবে ৭ জুলাই থেকে টানা ভারী বর্ষণ শুরু হলে পাহাড়ি ঢল নামে এবং নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে নৌপথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে এবং তারা থুইসপাড়ায় আটকে পড়েন।

পরবর্তীতে খবর পেয়ে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) এর জিন্নাপাড়া ক্যাম্পের একটি টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। বিজিবি সদস্যরা তাদের নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে ১১ জুলাই বিজিবির একটি অভিযানিক দল পর্যটকদের সঙ্গে নিয়ে বিকল্প পাহাড়ি পথে পায়ে হেঁটে থুইসপাড়া, জিন্নাপাড়া, হালিরামপাড়া ও নিকোলাসপাড়া অতিক্রম করে অংসাউপাড়া এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে তাদের রাতযাপনের ব্যবস্থা করা হয়।

পরদিন ১২ জুলাই অংসাউপাড়া ক্যাম্প থেকে আরেকটি টহলদল তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা দুর্গম পাহাড়ি পথ ও ঝিরি অতিক্রম করে সীমান্ত সড়ক সংলগ্ন নেপিউপাড়ায় পৌঁছায়। পরে বিজিবির যানবাহনের মাধ্যমে তাদের নিরাপদে থানচিতে ফিরিয়ে আনা হয়।

অভিযান চলাকালে একাধিক পাহাড়ধস, ঝিরিতে প্রবল স্রোত এবং অবিরাম বৃষ্টিপাত উদ্ধারকাজকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। তবুও সাহস, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বিজিবি সদস্যরা সফলভাবে অভিযান সম্পন্ন করেন।

উদ্ধার হওয়া পর্যটকরা বিজিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “বিজিবি সদস্যরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আমাদের পাশে ছিলেন। তারা আমাদের খাদ্য, আশ্রয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের উদ্ধার করেছেন।”

বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন বলেন, “সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্যাঞ্চলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিজিবির অন্যতম দায়িত্ব। প্রতিকূল পরিবেশেও আমাদের সদস্যরা সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের পরিবার বিজিবির এই দ্রুত ও সফল অভিযানের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বর্ষা মৌসুমে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজিবির এই মানবিক ও সাহসী উদ্যোগ পার্বত্য চট্টগ্রামে তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।