রাতভর বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত রাজধানী, আজও সারা দেশে বৃষ্টির আভাস

জলাবদ্ধতায় রাজধানীর সড়কে নাকাল জনজীবন, পাহাড়ি জেলায় ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকির সতর্কবার্তা।

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাতভর মুষলধারে বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রবল বর্ষণে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী ও সাধারণ মানুষ। এদিকে আজও দেশের অধিকাংশ এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাতে রোববার সকালেই রাজধানীর ধানমন্ডি, মিরপুর, মৌচাক, মালিবাগ, কারওয়ান বাজার, মতিঝিল ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

জলাবদ্ধতার কারণে অনেক স্থানে সড়কের ওপরই যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে সকাল থেকেই নগরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বাসের অপেক্ষায় থাকতে হয় অফিসগামীদের। এ সুযোগে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ১৩টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

রোববার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বজ্রসহ মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

এ পরিস্থিতিতে নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নিচু এলাকায় বসবাসকারীদের জলাবদ্ধতা ও যানজটের বিষয়টি মাথায় রেখে সময়মতো গন্তব্যে রওনা হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নদীবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য জানার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।