১ কোটি টাকার ওষুধে ৪ কোটি বিল: অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন বান্দরবান সিভিল সার্জন

দুর্নীতির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’: ১ কোটি টাকার ওষুধে ৪ কোটি টাকার বিল তোলার অভিযোগ অস্বীকার; ই-জিপি চালুর কারণে স্বার্থান্বেষী চক্রের অপপ্রচার।

নিজস্ব প্রতিবেদক: বান্দরবানের সিভিল সার্জন মো. শাহীন হোসাইন চৌধুরী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ১ কোটি টাকার ওষুধ কিনে ৪ কোটি টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সোমবার (৬ জুলাই) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সিভিল সার্জন বলেন, একটি প্রভাবশালী চক্র তাঁকে চাপ প্রয়োগ করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। এরই প্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই চক্র তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পূর্বে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টেন্ডার কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত কাজ পেত। কিন্তু বর্তমানে ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় পদ্ধতি (ই-জিপি) চালু হওয়ায় সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বিল প্রস্তুত প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকারি নিয়ম অনুসারে সংশ্লিষ্ট সব বিল প্রাথমিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে ওষুধ ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ ও যাচাই শেষে চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সিভিল সার্জন তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “আমি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অপচেষ্টা সফল হবে না।”

সংবাদ সম্মেলনে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চুসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে ওষুধ ক্রয় সংক্রান্ত বিল উত্তোলনে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন ও অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।