জীবনের মূল্য কি মাত্র ১৫ টাকা: পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ

১৫ টাকার টিকিটে বিলম্ব। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত নারীকে প্রায় ২০ মিনিট চিকিৎসা না দেওয়ার দাবি; তদন্ত ও জবাবদিহি চান স্বজনরা।

স্টাফ রিপোর্টার: পাবনা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত এক নারীকে ভর্তি টিকিট কাটার আগে চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, গভীর রাতে হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রায় ২০ মিনিট রোগীকে অপেক্ষা করতে হয়। পরে অর্থ জমা দেওয়ার পর চিকিৎসা শুরু হয়।

ভুক্তভোগীর স্বামীর এক বন্ধু জানান, শুক্রবার দিনগত র‌া‌ত্রি শনিবার (৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ১টা ৪৬ মিনিটে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ওই নারীকে দ্রুত পাবনা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে ভর্তি টিকিট না কাটার কারণে চিকিৎসক ও নার্সরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে বিলম্ব করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, প্রায় ২০ মিনিট পর ৫০০ টাকা জমা দেওয়ার পর চিকিৎসা শুরু হয়। এই সময়ের মধ্যে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগকারী বলেন, “জীবন-মৃত্যুর সংকটময় মুহূর্তে একজন রোগীকে ১৫ টাকার টিকিটের জন্য অপেক্ষা করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারি নির্ধারিত টিকিটের মূল্য ১৫ টাকা হলেও হাসপাতালে অনেক ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয় বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার ভিডিওচিত্র রয়েছে বলেও তাঁর দাবি।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, পাবনা সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে টিকিট বিক্রি, ভর্তি প্রক্রিয়া ও সেবাদানে অনিয়ম চলছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা উদ্ঘাটন এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত পাবনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বা জরুরি বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে যুক্ত করা হবে।

স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের মতে, জরুরি অবস্থায় রোগীকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসা নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।

এই প্রতিবেদনটি ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।