যুবকদের জন্য ‘যুব ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

সহজ শর্তে ঋণ ও উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য; সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু, বিশেষজ্ঞদের একাংশের আপত্তি

টুইট ডেস্ক: দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা দিতে বিশেষায়িত **‘যুব ব্যাংক’** প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত এই ব্যাংকের সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিচালন কাঠামো, অর্থায়ন ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রস্তাবিত ব্যাংকের কার্যক্রম, প্রশাসনিক কাঠামো এবং অর্থায়নের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অনেক তরুণ জামানত, অভিজ্ঞতা কিংবা আর্থিক সক্ষমতার অভাবে সহজে ঋণ পান না। ফলে সম্ভাবনাময় অনেক উদ্যোক্তা উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ হারান। এ বাস্তবতায় যুবকদের জন্য আলাদা একটি বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ‘যুব ব্যাংক’ থেকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে অর্থায়ন, স্টার্টআপ সহায়তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা গড়ে তুলতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হতে পারে।

তবে নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। দেশের অর্থনীতির তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা ইতোমধ্যেই বেশি বলে দীর্ঘদিন ধরে মত দিয়ে আসছেন অর্থনীতিবিদরা। সম্প্রতি জাতীয় সংসদেও ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, দেশে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত ব্যাংক রয়েছে, যেগুলোর অনেকই মূলধন ঘাটতি ও আর্থিক সংকটে রয়েছে। বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানোর পরিবর্তে নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করলে তা রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই ধরনের সেবা বিদ্যমান ব্যাংকগুলোর মাধ্যমেও দেওয়া সম্ভব বলেও তিনি মত দেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, বর্তমানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের ‘সিড ফাইন্যান্সিং’ কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এই কার্যক্রমকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও বিস্তৃত রূপ দিতেই ‘যুব ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে উদ্যোগটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্তমানে দেশে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তিনটি বিশেষায়িত ব্যাংক—বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া তফসিল-বহির্ভূত আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকও রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে মূলধন সংকট ও লোকসানের মতো সমস্যার মুখোমুখি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ৬২টি তফসিলি ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, ৪৩টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, ৯টি বিদেশি ব্যাংক এবং ৩টি বিশেষায়িত ব্যাংক।