ফাইনালেই হতে পারে মেসি–রোনালদো মহারণ

পর্তুগালের গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ায় বদলে গেছে নকআউটের সমীকরণ, বিশ্বকাপে দুই কিংবদন্তির সম্ভাব্য শেষ লড়াই এখন নির্ভর করছে ফাইনালে ওঠার ওপর

টুইট প্রতিবেদক: বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি দেখার আশা ছিল কোটি কোটি সমর্থকের। কিন্তু গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেই বদলে গেছে সেই সমীকরণ। এখন আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল নিজেদের সব নকআউট বাধা পেরোতে পারলেই কেবল ফাইনালে দেখা হতে পারে দুই কিংবদন্তির।

‘কে’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে পর্তুগাল রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে। এর ফলে তারা ভিন্ন ব্র্যাকেটে চলে গেছে। যদি পর্তুগাল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারত, তবে দুই দল নিজেদের ম্যাচ জিতলে কোয়ার্টার ফাইনালেই মেসি–রোনালদোর বহুল প্রতীক্ষিত দ্বৈরথ দেখা যেত। কিন্তু রানার্সআপ হওয়ায় সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে।

এখন পর্তুগালের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন নকআউট পথ। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া। সেই বাধা পেরোতে পারলে শেষ ১৬-তে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ স্পেন। এরপর আরও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে তবেই ফাইনালে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে রোনালদোর দল।

অন্যদিকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার পথ তুলনামূলক সহজ। নকআউটের প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। সেই ম্যাচ জিতলে ধাপে ধাপে ফাইনালের পথে এগিয়ে যাবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

মেসি ও রোনালদো দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৩৬টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে মেসির দল জিতেছে ১৬ বার, রোনালদোর দল ১১ বার এবং বাকি ৯টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ব্যক্তিগত গোলের হিসাবেও সামান্য এগিয়ে আছেন মেসি। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের গোল ২২টি, রোনালদোর ২১টি।

দুই কিংবদন্তির বয়স ও ক্যারিয়ারের বর্তমান অবস্থান বিবেচনায় ২০২৬ বিশ্বকাপকে তাঁদের শেষ বিশ্বকাপ বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকবার তাঁদের মুখোমুখি দেখার আকাঙ্ক্ষা আরও তীব্র হয়েছে সমর্থকদের মধ্যে।

এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের একমাত্র পথ,আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালকে নিজ নিজ ব্র্যাকেটের সব বাধা পেরিয়ে ফাইনালে উঠতে হবে। সেটি সম্ভব হলে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালই হয়ে উঠতে পারে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় এবং বহুল প্রতীক্ষিত মেসি–রোনালদো মহারণ।