দেশে ব্যাংক হিসাব ১৯ কোটির বেশি: আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ৬৪.৫০ শতাংশ: অর্থমন্ত্রী

খেলাপি ঋণ উদ্ধার, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত ও ব্যাংক সংস্কারে জোর।
টুইট প্রতিবেদক: দেশে মোট ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ২৩২টি। এর মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাব ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি এবং ঋণ হিসাব ১ কোটি ৫৩ লাখ ৭৬৭টি। জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।
বুধবার সংসদের প্রশ্নোত্তর টেবিলে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের মধ্যে শতভাগ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনতে সরকার জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল প্রণয়ন করেছে। বর্তমানে দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ৬৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।
ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের অর্থ বিদেশে পাচারের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংক ঋণ উদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ব্যাংকগুলো ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ‘নো উইন নো ফি’ শর্তে নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করেছে।
প্রথম পর্যায়ে ৬টি বড় কেস—সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপ—নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করা হবে বলে জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী সংসদে আরও জানান, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮ হাজার ২৩৩ দশমিক ৪৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৭৮ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার)। এর মধ্যে কনসেশনাল ঋণ ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং নন-কনসেশনাল ঋণ ৩৮ দশমিক ০৩ শতাংশ।
দেশে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৬ জন বা প্রতিষ্ঠান, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি।
চলতি অর্থবছরে কৃষি ঋণ মওকুফ বাবদ ১ হাজার ৫৬৭ দশমিক ৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৪৩১ জন কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
জরুরি তারল্য সহায়তা হিসেবে ১৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৭৫ হাজার ৯০৩ দশমিক ১১ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশে ৬৩টি ব্যাংক রয়েছে, যার ১১ হাজার ৩২৬টি শাখা এবং ৪ হাজার ৯২৯টি উপশাখা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম ২০২৫-এর আওতায় আনা হয়েছে।
আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা করে পরিশোধ করা হচ্ছে। আগে এ সীমা ১ লাখ টাকা থাকলেও তা বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে ইতোমধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকা আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার ৭৫ দশমিক ৩০ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। তারল্য সংকটে থাকা অন্যান্য ব্যাংকের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে এবং প্রয়োজনে রেজল্যুশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব উদ্যোগ ব্যাংক খাতের সংস্কার, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং খেলাপি ঋণ উদ্ধারে সরকারের চলমান প্রচেষ্টার অংশ। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক ৪৫ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদনও এ সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।






