চীনের দালিয়ানে বিশ্ব শক্তির মঞ্চে তারেক রহমান

দালিয়ানে সামার দাভোসে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈশ্বিক বিনিয়োগ, জলবায়ু ও উদ্ভাবনে বাংলাদেশের সম্ভাবনা।

টুইট প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস, যা সামার দাভোস নামে পরিচিত, তাতে অংশ নিয়েছেন। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনের প্লেনারি সেশনে তিনি যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, ব্যবসায়ী এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে অংশগ্রহণ।

আগের দিনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন এ শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক সেশনে বক্তব্য রাখেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্ব নেতাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “জলবায়ু প্রতিশ্রুতিকে কর্মে রূপান্তরিত করার সময় এসেছে। বাংলাদেশ কপ-৩১-এ সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।”

তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে—পরবর্তী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন, পদ্মা ও তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ পূরণ, সৌরবিদ্যুতে কর সুবিধা প্রদান এবং সবুজ শিল্পের উন্নয়ন।

একই দিনে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলোইস জভিংগি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় জলবায়ু সহনশীলতা, টেকসই উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জভিংগি বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং দাভোস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।

বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

সম্মেলনের ফাঁকে চীনা বিনিয়োগকারী ও বৈশ্বিক ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, নীতিগত সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, সরকার বাংলাদেশকে বিশ্ব বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে গত ২২ জুন দালিয়ানে পৌঁছান। আজ বিকেলে তিনি হাই-স্পিড ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন, যেখানে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং বিনিয়োগ ফোরামে অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ থেকে এক হাজার সাতশ’র অধিক নেতৃবৃন্দ অংশ নিয়েছেন। এটি বাংলাদেশের জন্য বৈশ্বিক বিনিয়োগ, জলবায়ু অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ‘গোল্ডেন ৫০ ইয়ার্স’-এ নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।