৫৫ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিস্ময়কর উত্থান, ৭১৯ কোটি থেকে ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট

তাজউদ্দীন আহমদের প্রথম বাজেট থেকে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর হাত ধরে নতুন অধ্যায়, বদলে গেছে দেশের অর্থনৈতিক চিত্র।
টুইট ডেস্ক: স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ ৫৫ বছরে এসে পৌঁছেছে এক নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতায়। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে মাত্র ৭১৯ কোটি টাকার বাজেট থেকে দেশের অর্থনীতির আকার এখন কয়েক লাখ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছেছে।
স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। ১৯৭২ সালে দেওয়া ওই বাজেটের আকার ছিল ৭১৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এরপর দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
অর্থাৎ ৫৫ বছরের ব্যবধানে দেশের বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৩০৩ গুণ।
আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসে ১৫তম বাজেট উপস্থাপনকারী ব্যক্তি হতে যাচ্ছেন।
স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৪ জন অর্থমন্ত্রী বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে দেশের বাজেট ঘোষণা করেছেন।
বাজেট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বাজেট দিয়েছেন যারা
দেশের বাজেট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বাজেট উপস্থাপনের রেকর্ড যৌথভাবে রয়েছে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও এম সাইফুর রহমানের দখলে। তারা প্রত্যেকে মোট ১২টি করে বাজেট উপস্থাপন করেছেন।
আবুল মাল আবদুল মুহিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে টানা ১০টি বাজেট ছাড়াও এরশাদ সরকারের আমলে আরও দুটি বাজেট উপস্থাপন করেন।
অন্যদিকে এম সাইফুর রহমান বিভিন্ন মেয়াদে ১২টি বাজেট ঘোষণা করেন। প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া টানা ছয়টি বাজেট উপস্থাপন করে গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড গড়েছিলেন।
সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল টানা পাঁচটি বাজেট উপস্থাপন করেন। আর আবুল হাসান মাহমুদ আলী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন।
অর্থনীতির পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা
১৯৭০-এর দশকে যেখানে দেশের বাজেট ছিল কয়েক হাজার কোটি টাকার নিচে, সেখানে ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো বাজেট এক লাখ কোটি টাকা ছাড়ায়।
এরপর দ্রুত বাড়তে থাকে বাজেটের আকার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজেট পাঁচ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা দাঁড়ায় ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকায়।
সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
আয়-ব্যয়ের নতুন হিসাব
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।
ফলে বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
এই ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
স্বাধীনতার ধ্বংসস্তূপ থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশের অর্থনীতি ৫৫ বছরে যে পথ পাড়ি দিয়েছে, তা দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও পরিবর্তনের বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।






