শান্তিরক্ষা মিশনে শহীদ ১৭৫ বাংলাদেশী

চার দশকে ৬৩টি মিশনে অংশ নিয়েছে দুই লাখের বেশি শান্তিরক্ষী: প্রধানমন্ত্রী

টুইট ডেস্ক: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৭৫ জন বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালনকালে আত্মোৎসর্গকারী শান্তিরক্ষীরা মানবতার জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।

বুধবার রাজধানীর সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা শুধু দেশের সুনামই বৃদ্ধি করেননি, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। এ পর্যন্ত জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ১৭৫ জন বাংলাদেশি সদস্য শহীদ হয়েছেন এবং অনেকেই আহত হয়েছেন।

তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালে সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে শহীদ হওয়া ছয় সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বিভিন্ন মিশনে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের দুই লাখেরও বেশি সদস্য বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০টি মিশনে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া হাইতিতে নতুন একটি শান্তিরক্ষা মিশনে যোগদানের প্রস্তুতি চলছে।

নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের দীর্ঘ চার দশকের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী আজ আস্থা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত। এই সুনাম ধরে রাখতে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, ঐক্য এবং দায়িত্বশীলতার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে নিজেদের সক্ষমতা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, তথ্যভিত্তিক অপপ্রচার এবং জলবায়ুজনিত নিরাপত্তা ঝুঁকি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভবিষ্যতের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও দূরদর্শী হতে হবে।

তিনি জানান, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকার পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে এবং শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হচ্ছে।