অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনীকে ভূমিকা রাখার আহ্বান

টুইট ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশ সবার। অতীতের ঘটনাবলি নিয়ে বিভক্ত না হয়ে সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা শুধু দেশের জন্য নয়, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও অনন্য অবদান রেখে চলেছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে শহীদ সদস্যদের আত্মত্যাগ যুদ্ধবিরোধী ও শান্তিকামী মানুষের জন্য চিরস্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সশস্ত্র বাহিনী দেশের আস্থা, নির্ভরতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারপ্রধান উল্লেখ করেন, অতীতের নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জ থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি শক্তিশালী ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকা জাতি সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

নারী শান্তিরক্ষীদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারী সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভবিষ্যতেও তাদের অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শান্তিরক্ষা মিশনে আত্মোৎসর্গকারী ছয় শহীদের পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে আহত সাতজন শান্তিরক্ষীকেও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সুনাম ও নেতৃত্ব দিন দিন আরও সুদৃঢ় হচ্ছে, যা দেশের জন্য গৌরবের বিষয়।