শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার আরও দৃঢ়: সেনাপ্রধান

হাইতির ‘গ্যাং দমন বাহিনী’তে যোগ দেবেন বাংলাদেশি সেনা, নৌ ও পুলিশ সদস্য
টুইট ডেস্ক: আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি জানিয়েছেন, জাতিসংঘের নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে হাইতিতে গঠিত ‘গ্যাং দমন বাহিনী’তে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা অংশগ্রহণ করবেন।
বুধবার ঢাকার সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সেনাপ্রধান জানান, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নয়টি শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের মোট ৪ হাজার ২১২ জন শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ৩ হাজার ৬০৮ জন, নৌবাহিনীর ৩০২ জন, বিমানবাহিনীর ২৬৭ জন এবং পুলিশের ৩৫ জন সদস্য রয়েছেন।
তিনি বলেন, পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারী শান্তিরক্ষীরাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ৩ হাজার ৯০৫ জন নারী শান্তিরক্ষী বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ২৯৪ জন নারী শান্তিরক্ষী কর্মরত রয়েছেন।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ একটি বিশ্বস্ত ও গ্রহণযোগ্য নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জও বদলাচ্ছে। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা উন্নত প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা, নৈতিক মূল্যবোধ ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছেন।
সেনাপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের বর্তমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, প্রযুক্তির ব্যবহার, চিকিৎসা ও প্রকৌশল সহায়তা বৃদ্ধি এবং নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণ আরও সম্প্রসারণে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বের কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। হাইতির নতুন মিশনে অংশগ্রহণ সেই অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে বলেও তারা মনে করছেন।






