তনু হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়, দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ

তনু হত্যা মামলায় পলাতক দুই সাবেক সেনাসদস্যকে ফেরাতে আদালতের পদক্ষেপ
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে। মামলার প্রধান সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ নির্দেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, দেশের বাইরে পলাতক থাকা দুই সন্দেহভাজনকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলম বর্তমানে কুয়েতে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামানের অবস্থান এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি কুমিল্লা সেনানিবাসের স্ট্যাটিক সিগন্যাল শাখার সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়।
আদালত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে জাহিদুজ্জামান ও শাহিন আলমের উপস্থিতি এবং হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক তারিকুল ইসলামকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর আগে ২২ এপ্রিল হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে তাঁকে পিবিআইয়ের বিশেষ ইউনিটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ২৫ এপ্রিল পুনরায় আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, মামলার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সোমবার হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে আবারও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পলাতক অন্য সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস সংলগ্ন ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দেশজুড়ে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও সম্পন্ন হয়নি।






