পাবনা শহরে জোড়া হত্যাকাণ্ড, অভিযুক্ত একজন আটক

সন্তানের সামনে গুলিতে নিহত এক ব্যক্তি, পৃথক ঘটনায় ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল কলেজছাত্রের।

টুইট প্রতিবেদক: পাবনা শহরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যা ও বিকালে গুলি এবং ছুরিকাঘাতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন আলী হোসেন (৫৩), অপরজন কলেজছাত্র মনিরুল ইসলাম (২৪)।

পুলিশ জানায়, সন্ধ্যায় পাবনা পৌর এলাকার জামিয়া আশরাফিয়া মাদরাসার সামনে আলী হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি রিকশায় করে নিজের সন্তানকে মাদরাসায় পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। মাদরাসার প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার যুবক তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় আলী হোসেনকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, আলী হোসেন সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ এলাকার বাসিন্দা এবং অতীতে চরমপন্থি নকশাল সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তথ্য রয়েছে।

অন্যদিকে, একই দিন বিকাল চারটার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসংলগ্ন এলাকায় মনিরুল ইসলাম ও রাকিব নামে এক যুবকের মধ্যে বিরোধের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে রাকিব ধারালো অস্ত্র দিয়ে মনিরুলকে ছুরিকাঘাত করেন।

আহত মনিরুলকে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই পালানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্ত রাকিবকে আটক করে পুলিশ। তিনি সাঁথিয়া উপজেলার শিবরামপুর এলাকার বাসিন্দা।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় কুমার সাহা জানান, দুই ঘটনারই তদন্ত চলছে। আলী হোসেনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মনিরুলের হত্যাকাণ্ডে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং উভয় ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, দুটি হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।