ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি স্থগিত

সরকারের সাত কর্মদিবসের আশ্বাসে আন্দোলন থেকে সরে এলেন চিকিৎসকরা
ঢাকা: ছয় দফা দাবিতে দেশব্যাপী।চলমান কর্মবিরতি ও আন্দোলন আপাতত স্থগিত করেছেন ইন্টার্ন ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকরা। সরকারের পক্ষ থেকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস পাওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক চিকিৎসক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি ও সংবাদ ব্রিফিংয়ে আন্দোলন স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়।
স্বাস্থ্য সচিব বলেন, এফসিপিএস পার্ট-১ এবং এমডি/এমএস (ফেজ-১) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীকে মাসিক ভাতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকদের ভাতাও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি আরও জানান, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
সরকারের আশ্বাসের মধ্যে আরও রয়েছে,বিসিপিএস ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও মেডিকেল কলেজে কর্মরত নবীন চিকিৎসকদের জন্য সম্মানজনক বেতন কাঠামো প্রণয়নে উদ্যোগ গ্রহণ এবং এ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা।
এর আগে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেন দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। দুপুরের দিকে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করা হয়।
আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের অভিযোগ, দেশের স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান শক্তি হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তারা বৈষম্য, অবহেলা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কাজ করে আসছেন। তাদের দাবি, মেধা ও শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
চিকিৎসকদের আন্দোলন আপাতত স্থগিত হলেও আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সরকারের প্রতিশ্রুত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন তারা। ফলে স্বাস্থ্য খাতের এ সংকট সাময়িকভাবে প্রশমিত হলেও এর স্থায়ী সমাধান নির্ভর করছে সরকারের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর।






