অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টারা কে কোথায়?

দায়িত্ব ছাড়ার পর কেউ ফিরেছেন শিক্ষকতায়, কেউ ব্যস্ত গবেষণা-ব্যবসা ও সামাজিক কাজে

টুইট ডেস্ক: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। প্রায় দেড় বছরের শাসন শেষে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে বিদায় নেয় আলোচিত সেই উপদেষ্টা পরিষদ।

সরকার থেকে বিদায়ের পর সাবেক উপদেষ্টারা এখন কে কোথায় আছেন এবং কী করছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ সাবেক উপদেষ্টা নিজ নিজ পেশা, গবেষণা, শিক্ষকতা ও ব্যক্তিগত কাজে ফিরে গেছেন।

ইউনূস ব্যস্ত ‘থ্রি জিরো’ তত্ত্ব নিয়ে

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব ছাড়ার পর গুলশানের নিজ বাসভবনে অবস্থান করছেন। অসুস্থ স্ত্রীর দেখভালের পাশাপাশি তিনি ‘থ্রি জিরো’—শূন্য দারিদ্র, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ—ধারণা এবং সামাজিক ব্যবসা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে কয়েকটি বিদেশ সফরও করেছেন তিনি।

শিক্ষকতা ও গবেষণায় ফিরেছেন অনেকে

সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফিরেছেন। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত সংস্কার নিয়ে পরামর্শক হিসেবেও কাজ করছেন।

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেছেন।

নৌপরিবহন ও শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বর্তমানে গবেষণা ও লেখালেখিতে সময় দিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের শিক্ষকতায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন চট্টগ্রামের আল জামিয়াতুল আরাবিয়াতুল ইসলামিয়ায় শিক্ষকতা শুরু করেছেন। সপ্তাহে দুই দিন সেখানে পাঠদান করছেন তিনি।

প্রশাসন ও কূটনীতিতে নতুন ভূমিকা

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। সম্প্রতি তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বর্তমানে ঢাকাতেই অবস্থান করছেন।

ব্যবসা, সামাজিক কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনে ব্যস্ততা

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন নিজ প্রতিষ্ঠান আকিজ-বশির গ্রুপে ফিরে গেছেন। সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ উত্তরায় নিজের কর্মস্থল ‘ব্রতী’র কার্যালয়ে কাজ করছেন।

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দায়িত্ব শেষের পরদিনই ‘বেলা’র প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগ দেন। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমও পুরোনো কর্মস্থল গ্রামীণ ব্যাংকে ফিরেছেন।

শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান আবারও মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর কার্যক্রমে সক্রিয় হয়েছেন।

লেখালেখি ও অবসরে সময় কাটছে কারও

খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার লেখালেখিতে সময় কাটাচ্ছেন। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বারিধারার বাসায় থেকে দুটি বই লেখার কাজ করছেন, পাশাপাশি ছবি আঁকছেন।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বর্তমানে পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ক্যান্টনমেন্টের বাসায় সময় কাটাচ্ছেন।

এ ছাড়া শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আববার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমাও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।