জাতিসংঘের পদে খলিলুর: মন্ত্রিসভায় অংশ নিলেন দেশে ফিরে

জাতিসংঘ ও মন্ত্রিসভায় একসঙ্গে দায়িত্বে খলিলুর রহমান: সরকারি অবস্থান স্পষ্ট, নজর বৈশ্বিক দায়িত্বে। বৈঠকে অংশগ্রহণ, আলোচনা জোরালো আন্তর্জাতিক দায়িত্ব নিয়ে।

টুইট প্রতি‌বেদক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পরই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা খলিলুর রহমানের দ্বৈত ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪জুন) দেশে ফিরে সন্ধ্যায় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেন।

ওই বৈঠকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় খলিলুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানানো হয়। একই সঙ্গে তার আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সরকারের নীতিগত অবস্থান ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েও জাতিসংঘের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো বিধিগত বাধা নেই। অতীতে বিভিন্ন দেশেই এ ধরনের নজির রয়েছে। বিশেষ করে চার দশক আগে বাংলাদেশের প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হুমায়ূন রশিদ চৌধুরীও তৎকালীন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থেকেই জাতিসংঘে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তরের সাবেক পরিচালক ড. সেলিম জাহান বলেন, ইতিহাসে দেখা যায় এ ধরনের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব ও জাতীয় মন্ত্রীপদ একসঙ্গে পালনের নজির রয়েছে, যা নতুন নয়।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও খলিলুর রহমানকে স্বপদে বহাল রাখার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, যদি তিনি জাতিসংঘের দায়িত্বে ডেডিকেটেডভাবে কাজ করতে চান, তবে সেখানে সময় দিতে হবে। তবে এর মানে এই নয় যে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের ইঙ্গিত অনুযায়ী, খলিলুর রহমান একই সঙ্গে মন্ত্রী ও জাতিসংঘের দায়িত্ব পালন করতে চাইলে সরকার সে ক্ষেত্রে বাধা দেখছে না।

সব মিলিয়ে, খলিলুর রহমানের এই দ্বৈত দায়িত্ব ঘিরে সরকারের ভেতরে সমন্বয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।