এমপির অপেক্ষায় ফেরি, ভোগান্তিতে শত যাত্রী

হাতিয়ায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফেরি ছাড়ার অভিযোগ, যাত্রীসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন?
টুইট প্রতিবেদক: নোয়াখালীর হাতিয়ায় সংসদ সদস্যের অপেক্ষায় ফেরি ছাড়তে বিলম্ব হওয়ায় শতাধিক যাত্রীকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নলচিরা-চেয়ারম্যান ঘাট নৌপথে চলাচলকারী ফেরি ‘মহানন্দা’ নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পরে ছেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও যাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যায় নলচিরা ঘাটে পৌঁছানোর পর নিয়মিত লোড-আনলোড কার্যক্রম শেষ হলেও ফেরিটি নির্ধারিত সময়ে চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেনি। যাত্রীদের দাবি, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের আগমনের অপেক্ষায় ফেরি ছাড়তে বিলম্ব করা হয়।
সূত্র জানায়, বিকেল সোয়া ৪টায় চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ফেরিটি সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে নলচিরা ঘাটে পৌঁছে। স্বাভাবিক নিয়মে ৪০ থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যে যানবাহন ওঠানামার কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ফেরিটি রাত প্রায় ৯টার দিকে ঘাট ত্যাগ করে। এ সময় বুকিং থাকা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন ফেরিতে উঠতে পারেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একাধিক যাত্রী জানান, বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা তাদের বলেন, “এমপি সাহেব আসবেন, তারপর ফেরি ছাড়া হবে।” এতে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে গন্তব্যে পৌঁছানোর কারণে কর্মস্থলে যোগদানে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
একজন যাত্রী বলেন, “একজন জনপ্রতিনিধির কারণে যদি শত শত সাধারণ মানুষকে অপেক্ষা করতে হয়, সেটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
তবে ফেরির মাস্টার মোজাম্মেল হক ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, ফেরিটি বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে ঘাটে পৌঁছায় এবং আনলোড-লোড কার্যক্রমে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে। পরে তাদের জানানো হয়েছিল সংসদ সদস্য ঘাটে আসবেন। সে কারণে কিছু সময়ের জন্য যানবাহন ওঠানো বন্ধ রাখা হয়।
তার ভাষ্য, যাত্রীদের চাপ ও উত্তেজনার পর রাত ৮টার কিছু পরে ফেরিটি চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তার দাবি, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিলম্ব ছিল প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সংসদ সদস্যের সমর্থকদের দাবি, তিনি ঘাট এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা অভিযোগ করেন, ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এ ঘটনার পর হাতিয়া নৌরুটে ফেরি পরিচালনা, সময়সূচি অনুসরণ এবং যাত্রীসেবার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, যাত্রীস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফেরি চলাচলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।






