ফেনীতে জেলি মেশানো চিংড়ি, জরিমানা ১ লাখ টাকা

ওজন বাড়াতে প্রতারণা, ২৮ কেজি চিংড়ি জব্দ করে ধ্বংস।
টুইট প্রতিবেদক: ফেনীর মাছবাজারে চিংড়ি মাছের ওজন কৃত্রিমভাবে বাড়াতে জেলি পুশ করার ঘটনায় চার ব্যবসায়ীকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রায় ২৮ কেজি জেলিমিশ্রিত চিংড়ি মাছ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) বিকেলে ফেনী শহরের বড় বাজার এলাকায় জেলা প্রশাসনের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান চালায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৌভিক রায়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নের এক ভোক্তা বাজার থেকে চিংড়ি মাছ কিনে বাড়িতে নেওয়ার পর মাছের ভেতরে জেলি পুশ করার বিষয়টি শনাক্ত করেন। পরে তিনি প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করলে মৎস্য বিভাগের সহযোগিতায় বাজারে অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মাছ ব্যবসায়ী কিরণ, দ্বীপক দাস, আলী হোসেন ও হানিফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাঁদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। শাস্তি দেওয়া হয় মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০ অনুযায়ী।
এ সময় সংশ্লিষ্ট দোকানগুলো থেকে প্রায় ২৮ কেজি জেলিমিশ্রিত চিংড়ি মাছ জব্দ করা হয়। পরে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় মাছগুলো মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে পরশুরাম উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈয়দ মোস্তফা জামান, সোনাগাজী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার পাল, জেলা মৎস্য দপ্তরের হিসাবরক্ষক মোশাররফ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের একটি দলও সহায়তা করে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৌভিক রায় বলেন, চিংড়ি মাছের ওজন বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে অপদ্রব্য হিসেবে জেলি ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি জানান, ভোক্তা অধিকার ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভোক্তা নিরাপত্তায় উদ্বেগ
মৎস্য খাতে ভেজাল ও ওজন বাড়ানোর কৌশল নতুন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছে জেলি বা অন্যান্য অপদ্রব্য প্রবেশ করানো শুধু ভোক্তাকে আর্থিকভাবে প্রতারিত করে না, বরং খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ফলে বাজার তদারকি জোরদার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।






