ফের ‘সুপার এল নিনো’র শঙ্কা

স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল প্রশান্ত মহাসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণ জলরাশি।
টুইট প্রতিবেদক: বিশ্ব জলবায়ু ব্যবস্থায় আবারও বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অস্বাভাবিক উষ্ণ জলরাশি শনাক্ত হওয়ার পর জলবায়ুবিদরা চলতি বছর ‘সুপার এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।
মার্কিন সাময়িকী ‘নিউজউইক’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উষ্ণতা যদি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে, তাহলে তা শক্তিশালী এল নিনোতে রূপ নিতে পারে এবং বৈশ্বিক আবহাওয়ায় ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি জলবায়ুগত প্রক্রিয়া। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হয়। কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও তীব্র খরা, আবার কোথাও অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ দেখা দেয়।
সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কয়েক মাস আগের তুলনায় উষ্ণ জলরাশির বিস্তার আরও তীব্র হয়েছে। জলবায়ু গবেষকদের ভাষ্য, পরিস্থিতি একইভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বৈশ্বিক আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের লক্ষণ স্পষ্ট হতে পারে।
ইতিহাস বলছে, ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের সুপার এল নিনো বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছিল। সে সময় বিভিন্ন দেশে খরা, দাবানল, বন্যা, ঝড় এবং কৃষি উৎপাদনে বিপর্যয় নেমে আসে। কোটি কোটি মানুষ খাদ্য ও পানি সংকটে পড়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান বৈশ্বিক উষ্ণায়নের যুগে এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে। কারণ, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ফলে সামুদ্রিক উষ্ণতা ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব আরও ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও ঝুঁকির বাইরে নয়। অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ এবং মৌসুমি বায়ুর অনিয়মিত আচরণ কৃষি ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনো পর্যবেক্ষণ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের সমুদ্র তাপমাত্রা, বায়ুপ্রবাহ ও আবহাওয়াগত তথ্য বিশ্লেষণের পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে, চলতি বছর সত্যিই ‘সুপার এল নিনো’ তৈরি হচ্ছে কি না।






