ট্রাম্প মহিষকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন

বিরল অ্যালবিনো মহিষকে কোরবানি থেকে রক্ষা, চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত।
টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশে ভাইরাল হওয়া বিরল অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ শেষ পর্যন্ত কোরবানির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে মহিষটিকে কেরানীগঞ্জ থেকে উদ্ধার করে ঢাকার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জিনগত বিরলতা ও জনআগ্রহের কারণে মহিষটিকে গবেষণা ও সংরক্ষণের আওতায় রাখা হবে। ইতোমধ্যে ক্রেতাকে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মহিষটিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
কেন আলোচনায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’?
মহিষটির গায়ের রং স্বাভাবিক কালো নয়; অ্যালবিনিজমের কারণে এর শরীর গোলাপি আভাযুক্ত। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে কপালের সোনালি চুল, যা অনেকের কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলের স্টাইলের সঙ্গে মিল বলে মনে হয়েছে। সেখান থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর নাম হয়ে যায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে।
বিশ্ব গণমাধ্যমে যেভাবে এলো খবর
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, ভাইরাল খ্যাতির কারণে বাংলাদেশে ঈদের কোরবানি থেকে রেহাই পেয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি রসিকতার ছলে মহিষটিকে ‘কমান্ডার ইন বিফ’ বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া এই মহিষকে চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছে।
ফ্রান্স ২৪ শিরোনাম করেছে, ভাইরাল তারকাখ্যাতি বাংলাদেশে ‘ট্রাম্প’ মহিষকে কোরবানির হাত থেকে বাঁচিয়েছে।
স্কাই নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি, নিউইয়র্ক পোস্ট, টাইমস অব ইসরাইল, দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, ডন, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বিরল প্রাণী সংরক্ষণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, শুধুমাত্র ভাইরাল হওয়ার কারণেই কি প্রাণীটি রক্ষা পেল, নাকি এটি ভবিষ্যতে বিরল প্রাণী সংরক্ষণে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালবিনো প্রাণী প্রকৃতিতে অত্যন্ত বিরল। এ ধরনের প্রাণী সাধারণত পরিবেশগত ঝুঁকি ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে দীর্ঘদিন বাঁচতে পারে না। ফলে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।





