ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে কারখানা মালিককে হত্যা

ফতুল্লায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সাবেক নারী কর্মচারীসহ আটক ২
টুইট ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় হোসিয়ারি কারখানার ভেতরে মালিককে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে সাবেক নারী কর্মচারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনায় নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে পালানোর অভিযোগও উঠেছে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত হিমা হোসিয়ারি অ্যান্ড গার্মেন্টস কারখানায় ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডে নিহত হয়েছেন হারুন খালাসী (৪২)। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি রাব্বানীনগর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে সাবেক নারী কর্মচারী মীম (২০) এবং একই কারখানার শ্রমিক রানা (২১)-কে।
চায়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পরিকল্পিত হত্যা
মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যায় কারখানার ভেতর অফিস কক্ষে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানা যায়। তদন্তে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মীম ও রানা পরিকল্পিতভাবে চায়ের সঙ্গে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে হারুন খালাসীকে অচেতন করেন।
অচেতন হয়ে পড়ার পর ভুক্তভোগীকে বস্তাবাঁধার রশি দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে দাবি পুলিশের।
প্রতিশোধ ও অর্থ লুটের অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে ৫০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগে মীমকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। এরপর থেকেই তিনি কারখানার মালিকের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে আসছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন সংক্রান্ত অর্থ চুরি এবং চাকরিচ্যুতির প্রতিশোধ নিতে এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
ঘটনার পর কারখানা থেকে তিনটি মোবাইল ফোন এবং প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
দ্রুত গ্রেপ্তার, লাশ উদ্ধার
ঘটনার পরপরই ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রথমে মীমকে আটক করে। পরে রানাকে তার নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে কারখানার ছাদ থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় নিহতের মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুইজনই হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।






