সময়ের সঙ্গে ম্লান হয়েছে সহানুভূতি, কাঁদছেন শহীদ মাতা

প্রথমদিকে ছিল মানুষের ভিড়, এখন ঈদের আগেও খোঁজ নেয় না কেউ;আক্ষেপ রহিমা বেগমের

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে ঈদুল আজহার উৎসব যেন কোনো আনন্দ বয়ে আনেনি শহীদ সায়মনের পরিবারে। চারদিকে যখন কোরবানির প্রস্তুতি আর উৎসবের আমেজ, তখন জীর্ণ এক ঘরে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে তুহিনকে নিয়ে নীরব কষ্টে দিন পার করছেন সায়মনের মা রহিমা বেগম।

বুধবার বিকেলে স্থানীয় প্রসময়ের সঙ্গে ফিকে আবেগ, নিঃসঙ্গতায় শহীদ সায়মনের পরিবারসময়ের সঙ্গে ফিকে আবেগ, নিঃসঙ্গতায় শহীদ সায়মনের পরিবারতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে নিজের আক্ষেপের কথা জানান তিনি।

রহিমা বেগম বলেন, ছেলে শহীদ হওয়ার পর প্রথমদিকে অনেকেই খোঁজখবর নিয়েছেন, সান্ত্বনা দিয়েছেন, সহযোগিতাও করেছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সেই আবেগ ধীরে ধীরে থিতিয়ে গেছে।

প্রতিবেশীদের ভাষ্য, গত ঈদে এক রাজনৈতিক নেতা কোরবানির জন্য একটি ছাগল পাঠিয়েছিলেন। তবে এবারের ঈদুল আজহার আগমুহূর্ত পর্যন্ত পরিবারটির খোঁজ নিতে কেউ এগিয়ে আসেনি। এমনকি একটি ফোনকল কিংবা দরজায় কড়া নেড়ে তাদের বর্তমান অবস্থা জানতে চাওয়ার মানুষও নেই।

ছেলেকে হারানোর বেদনা এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন রহিমা বেগম। গভীর অভিমান নিয়ে তিনি বলেন, “দেশের জন্য আমার ছেলে জীবন দিয়েছে। আমি টাকা-পয়সা চাই না। শুধু চাই মানুষ আমাদের একটু খোঁজ রাখুক, এসে জিজ্ঞেস করুক আমরা কেমন আছি।”

অর্থনৈতিক সংকটের চেয়েও পরিবারটির কাছে এখন বড় হয়ে উঠেছে মানবিক সহানুভূতি ও সামাজিক সংযোগের অভাব। যে তরুণ দেশের মানুষের ভবিষ্যতের স্বপ্নে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিল, তার পরিবার আজ উৎসবের দিনেও অবহেলা আর নিঃসঙ্গতার ভার বহন করছে।