একই পরিবারের ছয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর পাশে এমপি ও বিএনপি

সংবাদ প্রকাশের পর উখিয়ার রত্নাপালংয়ে মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের আশ্বাস স্থানীয় নেতৃত্বের।
টুইট প্রতিবেদক: কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম রত্নাখালপাড়ায় একই পরিবারের ছয়জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সদস্যের করুণ জীবনচিত্র গণমাধ্যমে প্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
সংবাদমাধ্যম আমার দেশে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের নজরে আসে এবং তারা পরিবারটির খোঁজ নিতে উদ্যোগী হন।
সরেজমিনে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা
এর ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। একই সময়ে উখিয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে ওই পরিবারকে দেখতে যান।
পরিদর্শনকালে তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসা, জীবনযাপন ও অর্থনৈতিক সংকট সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন।
তাৎক্ষণিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের আশ্বাস
পরবর্তীতে নেতারা তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারটিকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
উপজেলা বিএনপি সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, সংবাদ প্রকাশের পরপরই আমরা পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছি। একই পরিবারের একাধিক সদস্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী জানান, বিষয়টি মানবিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। পরিবারটির জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ চলমান
এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়–এর পক্ষ থেকেও বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা জানান, পরিবারটির সার্বিক অবস্থা যাচাই করে তাদের প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পরিবারের করুণ বাস্তবতা
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একই পরিবারের আরমান (২৫), জিহাদ (২৩), মাইমুন হাসান (১৯), আফিফা জান্নাত রিফা (৮), জামাল উদ্দিন (৫৫), সাজেদা বেগম ও ছমুদা বেগম (৯০) দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী অবস্থায় চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। পরিবারের আরও দুই সদস্য পূর্বে একই ধরনের সমস্যায় মৃত্যুবরণ করেছেন বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় পর্যায়ে ঘটনাটি মানবিক সহায়তা ও স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি আরও জোরালো করেছে।






