ছাগলকাণ্ডের পর বদলে গেছে হাটের চিত্র

বড় পশুর ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে পরিচয় গোপনের প্রবণতা।

টুইট ডেস্ক: কোরবানির ঈদ ঘিরে রাজধানীর পশুর হাটে জমে উঠেছে কেনাবেচা। তবে এবারের হাটে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন বাস্তবতা।

উচ্চমূল্যের গরু বা খাসি কিনলেও অনেক ক্রেতা নিজেদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে অনাগ্রহী। সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া, পরিচয় গোপন রাখা এমনকি বিরক্ত প্রতিক্রিয়া জানানোর ঘটনাও বাড়ছে।

রাজধানীর দিয়াবাড়ি পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, বড় পশুর ক্রেতাদের একটি অংশ সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। কেউ নাম বলতে রাজি নন, আবার কেউ পেশা কিংবা ঠিকানার তথ্যও প্রকাশ করতে চাইছেন না।

গত রোববার নাছির এগ্রো ফার্মের ব্রাহামা জাতের গরু ‘সুলতান ভাই’ প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকায় কিনেছেন এক ব্যক্তি। একই দিন তিনি কাশ্মীর থেকে আনা লাদাখি জাতের বড় আকৃতির খাসি ‘সুলতান’ও ক্রয় করেন। কিন্তু পুরো লেনদেন শেষ হলেও নিজের পরিচয় গোপন রাখেন ওই ক্রেতা।

ফার্মটির পরিচালক জাহাঙ্গীর খান জানান, ক্রেতা তার কাছেও বিস্তারিত পরিচয় দেননি। পশু কেনার অনেক পরে এসে তিনি পশু দুটি নিয়ে যান।

মঙ্গলবার একই হাটে তুলনামূলক কম দামে বড় গরু বিক্রি হতে দেখা যায়। তিন লাখ টাকায় একটি শাহীওয়াল ক্রস জাতের গরু কেনেন তৌফিক রহমান নামের এক ব্যক্তি। তবে তার সঙ্গে থাকা স্বজনের পরিচয় জানতে চাইলে তারা স্পষ্ট অনাগ্রহ দেখান। এমনকি পেশা সম্পর্কে জানতে চাইলে সংক্ষিপ্ত জবাব দেন, “আমরা বাইরে থাকি, এত তথ্য দিতে চাই না।”

এক পর্যায়ে আরেক বড় গরুর ক্রেতা সাংবাদিকের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “গরু কিনেছি, দরদামও দেখেছেন। এরপর আবার এত কিছু জানার দরকার কী? পরে ঝামেলায় পড়তে চাই না।”

খামারি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বড় পশু কেনা নিয়ে বিদ্রূপ, সমালোচনা এবং সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতা বেড়েছে। এর প্রভাবেই অনেক ক্রেতা এখন সতর্ক আচরণ করছেন।

খামারি জাহাঙ্গীর খানের ভাষ্য, “বড় ছাগল কেনা নিয়ে যেভাবে একজনকে সামাজিকভাবে বিব্রত হতে হয়েছে, এরপর থেকেই অনেকে ভয় পাচ্ছেন। কেউ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত, আবার কেউ হয়তো নিজের আর্থিক তথ্য সামনে আনতে চান না।”

শেরপুরের পশু ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আগে বড় পশু কেনার মধ্যে সামাজিক মর্যাদা ও গর্বের বিষয় ছিল। ক্রেতারা নিজেরাই পরিচয় দিতে আগ্রহ দেখাতেন।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। তার মতে, আয়কর, সম্পদের উৎস কিংবা সামাজিক সমালোচনার আশঙ্কায় অনেকেই নিজেদের আড়ালে রাখছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়া, অনলাইন বিদ্রূপ সংস্কৃতি এবং আর্থিক জবাবদিহিতার চাপ,সব মিলিয়ে বড় পশুর ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

ফলে এবারের পশুর হাটে শুধু পশুর দাম নয়, আলোচনায় উঠে এসেছে পরিচয় গোপনের নতুন সংস্কৃতিও।