কাদায় ডুবল পশুর হাট

বৃষ্টি আর অব্যবস্থাপনায় চরম ভোগান্তি, ক্ষোভে ফুঁসছেন বেপারী-ক্রেতারা।

টুইট প্রতিবেদক: রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলো জমে উঠলেও টানা বৃষ্টি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। বিশেষ করে উত্তরার দিয়াবাড়ি পশুর হাটে কাদা, পানি ও গোবরের মিশ্রণে তৈরি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।

এতে যেমন পশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে, তেমনি বিক্রিও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন খামারি ও বেপারীরা।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, দিয়াবাড়ি হাটের ভেতরের অধিকাংশ সড়ক কাদায় ডুবে আছে। কোথাও হাঁটুসমান পানিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে গরু, আবার কোথাও ক্লান্ত পশু কাদার মধ্যেই শুয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে অসুস্থ হয়ে পড়া পশুকে ওষুধ খাওয়াতেও দেখা গেছে খামারিদের।

কুষ্টিয়ার আলমডাঙ্গা থেকে আসা বেপারী আসাদুল বলেন, “পানির মধ্যে গরু দাঁড়িয়ে আছে, মানুষ কাছে আসছে না। দূর থেকে দেখে চলে যাচ্ছে। গরুর কাছে এসে মায়া না জন্মালে কেউ কিনবে কীভাবে?”

জামালপুরের বেপারী মো. ফরিদ মিয়ার অভিযোগ, হাট ইজারাদারেরা বড় অঙ্কের টাকা দিলেও বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা রাখেননি।

তিনি বলেন, “বৃষ্টিতে ভিজে আমার গরু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। প্রায় তিন হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়েছে। এমন অব্যবস্থাপনা হলে ব্যবসা করা কঠিন।”

ফরিদপুরের মোসাব্বের রহমান বাবু জানান, কাদা-পানির কারণে অনেক ক্রেতাই হাটের ভেতরে ঢুকতে চাইছেন না। এতে বিক্রির সুযোগ কমে যাচ্ছে। তার ভাষায়, “আগামী বছর এই হাটে আসার আগে বেপারীরা দশবার ভাববেন।”

তবে প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেই পশু কিনতে হাটে ভিড় করছেন ক্রেতারা। হাতে ছাতা নিয়ে কাদা মাড়িয়ে অনেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পশু কিনতে এসেছেন।

তাদের দাবি, ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা এখন বেশি, আর বৃষ্টির কারণে তুলনামূলক কম দামেও পশু পাওয়া যাচ্ছে।

মিরপুর থেকে আসা ক্রেতা মো. আসাদ মিয়া বলেন, “বৃষ্টি মাথায় নিয়েই এসেছি। আজ বিক্রেতারা দাম কিছুটা ছাড়ছেন।” তুরাগের আমিনুল ইসলাম জানান, “গতকালের তুলনায় আজ বাজেটের মধ্যে গরু পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু হাটের পরিবেশ খুবই খারাপ।”

বনানী থেকে গরু কিনতে আসা আসাদুল্লাহ শেখ জানান, দরদাম করে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকায় গরু কিনেছেন তারা। তবে কাদার কারণে চলাফেরায় ভোগান্তি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নাটোরের সিংড়া থেকে দুটি দেশি মহিষ নিয়ে আসা খামারি আব্দুস সবুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই হাটে আর কখনো আসব না। ছয় মাস লালন-পালনের পরও এখন কিনে আনা দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পুরো দায় অব্যবস্থাপনার।”

হাটের এই দুরবস্থা নিয়ে কথা বলতে দিয়াবাড়ি হাটের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান এস এফ কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. শেখ ফরিদ হোসাইনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটে একই ধরনের জলাবদ্ধতা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠছে।

ঈদের আগে হাট ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।