ঈদের আগেই ঝড়ে নিভে গেল ফয়েজের প্রাণ

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে গাছচাপায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ গ্রাম।

টুইট প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ঘিরে ছিল পুরো পরিবার। নারায়ণগঞ্জ থেকে বাবা-মায়ের বাড়ি ফেরার কথা ছিল বিকেলেই। ছোট্ট ছেলে ফয়েজের জন্য কেনা হয়েছিল নতুন জামাও। কিন্তু ঈদের আগমুহূর্তে সেই আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় গভীর শোকে। প্রবল ঝড়ে ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার শিশু ফয়েজ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোররাতে উপজেলার গজরা ইউনিয়নের টরকীকান্দা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত ফয়েজ স্থানীয় ৮২নং গজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে টরকীকান্দা গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোররাতে প্রবল ঝড় ও দমকা হাওয়ার সময় ফয়েজ তার দাদী মমিনা খাতুনের সঙ্গে চাচার ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় একটি বড় গাছ উপড়ে ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। গাছের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শিশুটির। তবে ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য ঘর থেকে বের হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান তার দাদী।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ফয়েজের বাবা আবু তাহের নারায়ণগঞ্জে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। লেখাপড়ার সুবিধার্থে ছেলে ফয়েজকে গ্রামের বাড়িতে দাদীর কাছে রাখা হয়েছিল। ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সবাই একসঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা থাকলেও বাড়ি ফেরার আগেই সন্তানের মৃত্যুসংবাদ পৌঁছে যায় বাবা-মায়ের কাছে।

ঘটনার পর পুরো টরকীকান্দা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। প্রতিবেশীদের ভাষ্য, শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের ফয়েজ সবার কাছেই প্রিয় ছিল।

নিহতের দাদী মমিনা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ভোরে আজান ও ঝড়ের শব্দে ঘুম ভাঙে। তিনি নাতিকে উঠতে বললেও ফয়েজ কিছুক্ষণ পরে উঠবে বলে জানায়। পরে হঠাৎ বিকট শব্দে বড় একটি গাছ ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। তার চোখের সামনেই নাতির মৃত্যু হয়।

বাবা আবু তাহের বলেন, “ছেলের জন্য ঈদের নতুন জামা কিনছিলাম। বিকেলে বাড়ি আসার কথা ছিল। আল্লাহ আমার সব শেষ কইরা দিল।”

মতলব উত্তর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হবে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। পরিবারটি অসহায় হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।