ঈদযাত্রায় রেলে স্বস্তির বার্তা

অতিরিক্ত চাপ সামলেও বড় শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখছেন না রেলমন্ত্রী।

টুইট প্রতিবেদক: ঢাকা, ২৪ মে ২০২৬: ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ট্রেনে ঘরমুখী মানুষের চাপ বাড়লেও বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। রোববার দুপুরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, পুরোনো রেললাইন ও সীমিত সংখ্যক লোকোমোটিভ নিয়েই সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ঈদযাত্রা পরিচালনা করা হচ্ছে। যাত্রীচাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও রেল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত প্রস্তুতি নিয়েছে।

তিনি জানান, সাধারণ সময়ে ঢাকা থেকে আন্তঃনগর ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩২ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ টিকিট ছাড়ার মাধ্যমে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ৪০ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। তবে বাস্তবে ঈদযাত্রায় ট্রেনে ভ্রমণের চাহিদা লক্ষাধিক ছাড়িয়ে যায়।

আকস্মিক পরিদর্শনে যাত্রী সন্তুষ্টির দাবি

কমলাপুর স্টেশনে আকস্মিক পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কোন ট্রেনে উঠবেন তা আগে নির্ধারিত ছিল না। তাৎক্ষণিকভাবে দুটি ট্রেনে উঠে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং যাত্রীরা সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তার ভাষায়, স্টেশন ও ট্রেনের পরিবেশ আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। সিট ধারণক্ষমতার মধ্যেই যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। যদিও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে নির্ধারিত সক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত টিকিট ছাড়তে হয়েছে।

বুড়িমারী এক্সপ্রেস বিকল, কিছু ট্রেন বিলম্বিত

সকালে কয়েকটি ট্রেন দেরিতে ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, বুড়িমারী এক্সপ্রেস ঢাকায় আসার পথে রেললাইনে শুকাতে দেওয়া খড়ের কারণে চাকা স্লিপ করে সাময়িক বিকল হয়ে পড়ে। এতে ট্রেনটির ঢাকায় পৌঁছাতে বিলম্ব হয় এবং এর প্রভাব পড়ে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস–এর যাত্রাসূচিতেও।

তবে এ বিলম্ব দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলবে না বলেই আশা করছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। শনিবারও একটি ট্রেনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িক বিলম্ব সৃষ্টি হয়েছিল, যা দ্রুত সমাধান করা হয়েছে।

বাড়ানো হয়েছে কোচ ও লোকোমোটিভ

রেলমন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন রুটে নতুন করে ৫১টি কোচ সংযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ৮২ থেকে ৮৩টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সচল রয়েছে। শিগগিরই আরও কয়েকটি যুক্ত করা সম্ভব হলে মোট সংখ্যা ৮৫ থেকে ৮৬টিতে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনা ও লাইনচ্যুতির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো আগেই চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি স্পেয়ার লোকোমোটিভ প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।

টিকিট কালোবাজারি কমেছে

মন্ত্রী দাবি করেন, অনলাইনভিত্তিক টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর ফলে টিকিট কালোবাজারি আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। একই সঙ্গে রেলসেবার মান ও পরিবেশ উন্নত হওয়ায় যাত্রীদের আস্থাও বেড়েছে।

পরিদর্শনকালে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে–এর মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন উপস্থিত