অনুদানের টাকায়ও ঘুষ, তিন কর্মী বরখাস্ত

মৃত প্রবাসীর পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা, ‘শূন্য সহনশীলতা’ বার্তা প্রতিমন্ত্রীর

টুইট প্রতিবেদক: মৃত প্রবাসী কর্মীর পরিবারের জন্য বরাদ্দ আর্থিক অনুদান পাইয়ে দেওয়ার নামে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের দুই কর্মচারী এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এক কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার পৃথক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন,ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নিরাপত্তা প্রহরী মো. শফি উদ্দিন, অফিস সহায়ক পলাশ চন্দ্র রায় এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পিয়ন শামিম।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে মারা যাওয়া প্রবাসী মো. কাইয়ুমের পরিবারের জন্য আর্থিক অনুদান অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অভিযুক্ত দুই কর্মচারী ঘুষ দাবি ও গ্রহণ করেন।

একইভাবে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কর্মী শামিম ঋণ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ নেন।

এ ঘটনায় এক সাংবাদিক ও ভুক্তভোগী পরিবার ভিডিও প্রমাণসহ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের কাছে অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালককে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তদের দপ্তরে যান এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন।

সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের আচরণ প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে এবং এটি শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। তাই প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, “রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা হয়রানি বরদাশত করা হবে না।

দেশে কিংবা বিদেশে দূতাবাস পর্যায়েও ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হবে।”বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলেও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবাখাতে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

সাম্প্রতিক এ ঘটনায় সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিলেও, স্থায়ী সমাধানের জন্য জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক সংস্কার জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।