ভিজিএফের চাল উদ্ধার নিয়ে তোলপাড়

বোয়ালমারীতে সাবেক কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে ৬৩০ কেজি সরকারি চাল জব্দ।
টুইট ডেস্ক: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের ৬৩০ কেজি চাল উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে পৌর এলাকার এক সাবেক কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে এসব চাল উদ্ধার করা হয়।
বুধবার রাত ৮টার দিকে পৌরসভার আঁধারকোঠা গ্রামের বাসিন্দা ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সামাদ খানের বাড়ির নিচতলা থেকে চালগুলো জব্দ করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ। এ সময় পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ১২ বস্তা ও খুচরা মিলিয়ে মোট ৬৩০ কেজি চাল উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার হওয়া চাল পৌরসভা কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা অভিযোগ করে বলেন, দুস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি চাল সাবেক কাউন্সিলর ও জামায়াত নেতা আব্দুস সামাদ খানের বাড়িতে পাওয়া যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুস সামাদ খান। তার দাবি, প্রতি বছরই এভাবে চাল তার বাড়িতে এনে রাখা হয় এবং তিনি এ বিষয়ে কোনোভাবে জড়িত নন। তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাহেব আলী ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিকেল ৩টার দিকে পৌরসভা থেকে চাল এনে কাউন্সিলরের বাড়িতে রাখা হয়েছিল। আগামী সোমবার ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মধ্যে তা বিতরণের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পরে পৌরসচিব ও ম্যাজিস্ট্রেট এসে চালগুলো নিয়ে যান।
এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট শিব্বির আহমেদ বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত শেষে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।
সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির চাল বিতরণ নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এবার বোয়ালমারীর ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন মাত্রা পেল।






