হজে গতি, চাপে ব্যবস্থাপনা

৫৯ হাজার হাজি সৌদিতে, বিমান ভাড়া ও আবাসন সংকট নিয়ে উদ্বেগ।
টুইট প্রতিবেদক: চলতি বছরের হজ কার্যক্রম নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এগিয়ে চলছে বলে দাবি করেছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। সংগঠনটির তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৫৯ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। নিবন্ধিত প্রায় সব হাজিই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হজ পালনের সুযোগ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছে তারা।
শনিবার রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাব সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার এবং মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার চলতি হজ ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি, সংকট ও সরকারি পদক্ষেপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
হাব জানায়, এ বছর মোট ৭৮ হাজার ৩৭৮ জন হজযাত্রী ভিসা পেয়েছেন। এর মধ্যে ৫৯ হাজার ৫৫ জন ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। আগামী ২১ মে শেষ হবে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রম।
সংবাদ সম্মেলনে বিমান ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন হাব সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, হজ ডেডিকেটেড ফ্লাইটের নামে বিমান সংস্থাগুলো একজন যাত্রীর কাছ থেকে প্রায় ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এতে সামগ্রিক হজ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
তার ভাষ্য, বিমান টিকিটের মূল্য এক লাখ টাকার মধ্যে রাখা গেলে আরও বেশি মানুষ হজে যেতে পারতেন। অতিরিক্ত বিমান ভাড়া ও মোয়াল্লেম ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই এ বছর পূর্ণ কোটা ব্যবহার সম্ভব হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আগামী বছর থেকে টিকিটের দাম কমাতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান হাব সভাপতি।
হাব মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, এবারের হজ ব্যবস্থাপনা ছিল সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে জটিল ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। সৌদি সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি এজেন্সির জন্য ন্যূনতম দুই হাজার হাজির কোটা বাধ্যতামূলক করা হয়। অথচ দেশে প্রায় ১১০০ লাইসেন্সধারী হজ এজেন্সি রয়েছে। ফলে মাত্র ৩০টি লিড এজেন্সির মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি জানান, হজ নিবন্ধনের পর সৌদি কর্তৃপক্ষ ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একই সঙ্গে স্বল্প সময়ের মধ্যে মোয়াল্লেম চুক্তি, বাড়িভাড়া, পরিবহন ব্যবস্থা ও তাঁবু নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়েছে। এমনকি ফ্লাইট সূচি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই আবাসন নিশ্চিত করতে হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মক্কা ও মদিনার কিছু হোটেল ও বাড়ির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার আগেই ভাড়া চুক্তি সম্পন্ন করতে বাধ্য করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। পরে কয়েকটি হোটেলে হাজিদের ওঠার অনুমতি না পাওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও সামগ্রিক হজ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন হাব নেতারা।
তারা জানান, ভিসা, ফ্লাইট ও টিকা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায় কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি আশকোনা হজ ক্যাম্পে চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, মশা নিয়ন্ত্রণ, কর্মীদের খাবার এবং লাগেজ মোড়কীকরণের বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরে হাব। সংগঠনটির নেতারা বলেন, সৌদি আরবের দ্রুত পরিবর্তিত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বাংলাদেশের বিদ্যমান হজ ও ওমরাহ আইন সংস্কার এখন সময়ের দাবি। ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
হাব মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, সরকার, সংশ্লিষ্ট সংস্থা, হজ এজেন্সি এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এবার একটি সুশৃঙ্খল হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
ভবিষ্যতে আরও আধুনিক, সমন্বিত ও যাত্রীবান্ধব হজ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।






