ভারতের রিজার্ভে চাপ, বাড়ছে সতর্কতা

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় এক লাখ কোটি ডলারের মজুত চায় আরবিআইয়ের সাবেক ডেপুটি গভর্নর।

টুইট প্রতিবেদক: ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয় বলে সতর্ক করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) সাবেক ডেপুটি গভর্নর মাইকেল দেবব্রত পাত্র। তার মতে, ভবিষ্যৎ আর্থিক ধাক্কা সামাল দিতে ভারতের রিজার্ভ অন্তত এক লাখ কোটি ডলারে উন্নীত করা প্রয়োজন।

বর্তমানে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৬৯ হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। তবে মাইকেল পাত্র মনে করেন, শুধু আমদানি ব্যয় বা মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখাই নয়, বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও ঋণ পরিশোধের ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও বড় নিরাপত্তা বলয় দরকার।

গত ১৬ মার্চ প্রকাশিত ‘বেসিস পয়েন্ট’ শীর্ষক এক প্রবন্ধে তিনি বলেন, এক বছরের মধ্যে পরিশোধযোগ্য স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের জন্য অন্তত ৩৫ হাজার কোটি ডলার সংরক্ষণ থাকা উচিত। একই সঙ্গে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের আকস্মিক অর্থ প্রত্যাহারের ঝুঁকি মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্রায় ৬৫ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে বিদেশি বিনিয়োগ দ্রুত দেশত্যাগ করতে পারে এবং সেই চাপ কয়েক বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের পর ভারত ইতোমধ্যে এমন পরিস্থিতির আংশিক অভিজ্ঞতা পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি দেশের আর্থিক নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তিগুলোর একটি। আমদানি ব্যয় পরিশোধ, মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে এই রিজার্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিশ্বের অধিকাংশ দেশ তাদের রিজার্ভের বড় অংশ মার্কিন ডলারে সংরক্ষণ করে থাকে। সাধারণভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ডলারের অংশ ৬০ শতাংশেরও বেশি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আলাদা, কারণ দেশটি নিজস্ব মুদ্রাতেই আন্তর্জাতিক লেনদেন পরিচালনার সক্ষমতা রাখে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক সুদের হারের চাপ অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে ভারতসহ উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে। সে কারণে বড় আকারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে এখন কৌশলগত সুরক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।