পাহাড়ে নিয়োগ ঘিরে উদ্বেগ

পার্বত্য জেলা পরিষদে স্বচ্ছতা চায় জনগণ, দলীয়করণ ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান: বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে আসন্ন নিয়োগকে ঘিরে পাহাড়ে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জনমুখী নিয়োগ নিশ্চিতের দাবিতে এবার সরব হয়েছে পাহাড়ি-বাঙালি সচেতন মহল ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশ।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে তৎপরতা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং নানামুখী তদবিরের অভিযোগও সামনে আসছে। ফলে জনস্বার্থে দীর্ঘদিন কাজ করে যাওয়া যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, অতীতেও দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া কিছু ব্যক্তিকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এতে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি হারানোর পাশাপাশি সামাজিক অস্থিরতার অভিযোগও উঠেছিল। সে অভিজ্ঞতা থেকে এবার আরও সতর্ক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তাদের দাবি, চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নিয়োগের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে প্রার্থীদের নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাই করা হোক। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ না দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাহাড়ি-বাঙালি নাগরিক সমাজের ভাষ্য, পার্বত্য জেলা পরিষদ কেবল একটি প্রশাসনিক কাঠামো নয়; এটি পাহাড়ের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু। তাই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ নয়, বরং সততা, দক্ষতা ও জনসম্পৃক্ততাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি কার্যকর, জনবান্ধব এবং গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের প্রত্যাশা করছে। তাদের বক্তব্য, “দলীয় পরিচয়ের নয়, প্রয়োজন কাজের মানুষের।”
বিশ্লেষকদের মতে, স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে পার্বত্য অঞ্চলে জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং শান্তি ও উন্নয়নের পরিবেশও সুসংহত হবে। এ প্রেক্ষাপটে বিষয়টিতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নজরদারি ও কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।






