গণভোটের নিশ্চয়তা ছাড়া কমিটিতে নয় জামায়াত

সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটিতে যোগ দিতে শর্ত; একই অবস্থানে এনসিপি, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত ১১ দলের
টুইট ডেস্ক: সংবিধান সংশোধন নিয়ে নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। অষ্টাদশ সংশোধনীর জন্য বিএনপির প্রস্তাবিত বিশেষ কমিটিতে গণভোটের ফল বাস্তবায়নের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ছাড়া অংশ নিতে রাজি নয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই অবস্থান নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের ভাষ্য, গণভোট বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা ছাড়া এ ধরনের কমিটিতে যোগ দেওয়া মানে হবে বিএনপির অবস্থানকে বৈধতা দেওয়া। এতে সংখ্যালঘু জোটের রাজনৈতিক দাবি বাস্তবায়নের সুযোগও সীমিত হয়ে যাবে।
জানা গেছে, এখনই কমিটি বর্জনের ঘোষণা না দিলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে নতুন কর্মসূচিও শুরু করতে যাচ্ছে জোটটি।
শনিবার থেকে চতুর্থ দফার কর্মসূচি হিসেবে রাজশাহীতে শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে সমাবেশের আয়োজন করা হবে। পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় শহরগুলোতেও কর্মসূচি চলবে। এসব সমাবেশ থেকে বিশেষ কমিটির পরিবর্তে *সংবিধান সংস্কার পরিষদ* গঠনের দাবি জানানো হবে।
সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন মো. আসাদুজ্জামান। তার প্রস্তাব অনুযায়ী ১৭ সদস্যের কমিটিতে বিএনপি, বিরোধী দল এবং অন্যান্য পক্ষের সদস্য রাখার কথা বলা হয়।
এ বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান আগে সংসদে বলেন, সংশোধন ও সংস্কারের মধ্যে ধারণাগত পার্থক্য রয়েছে এবং এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের জানিয়েছেন, আগামী বাজেট অধিবেশনের আগে কমিটিতে নাম দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।
অন্যদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ অতীতের উদাহরণ টেনে প্রশ্ন তুলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বিরোধীরা কোন ভরসায় এমন কমিটিতে অংশ নেবে।
এনসিপির সংবিধান সংস্কার কমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার বলেন, *“সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার হবে। গণভোটবিরোধী কোনো কিছুর সঙ্গে এনসিপি থাকবে না।”*
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী জোটের অবস্থানগত দূরত্ব নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণকে জটিল করে তুলতে পারে।






