আইন ভেঙে এসআইবিএলের প্রশাসক বদলি

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে আইনি প্রশ্ন, একীভূতকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন বিতর্ক
টুইট প্রতিবেদক: একীভূতকরণ প্রক্রিয়াধীন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক–এর প্রশাসক বদলিকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রচলিত আইন ও বিধান উপেক্ষা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ (এইচআরডি) প্রশাসক সালাহ উদ্দীন ও তার সহযোগী রাশেদুল ইসলামকে বদলি করেছে।
তাদের স্থানে নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নির্বাহী পরিচালক আবুল বসারকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ব্যাংক রেজুলেশন আইন-২০২৬ অনুযায়ী সংকটাপন্ন ব্যাংকের প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজুলেশন বিভাগ (বিআরডি)-এর ওপর ন্যস্ত। ফলে প্রশাসক নিয়োগ, অপসারণ কিংবা পরিবর্তনের এখতিয়ারও ওই বিভাগের।
কিন্তু বিআরডিকে অবহিত না করেই প্রশাসক বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে বিআরডির সুপারিশে সালাহ উদ্দীনকে এসআইবিএলের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে সহযোগী হিসেবেও দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই মাত্র ছয় মাসের মাথায় একজন ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালকের নির্দেশে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ব্যাংক রেজুলেশন আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক রেজুলেশনের আওতায় গেলে তার সব কার্যক্রম পৃথক রেজুলেশন বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়ার কথা।
আইনের ধারা ১৯-এ প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা এবং ধারা ২৩-এ প্রশাসকের দায়িত্ব অবসানের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এসব বিধান অনুসরণ না করেই প্রশাসক বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই সিদ্ধান্ত একীভূতকরণ প্রক্রিয়াকে আইনগত ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
তাদের দাবি, প্রশাসক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিআরডির মতামত বা অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ফলে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত বদলি কার্যক্রমের অংশ। গভর্নরের নির্দেশে যেকোনো বিভাগ থেকেই বদলি করা যেতে পারে।
ব্যাংক খাত বিশ্লেষকদের মতে, সংকটাপন্ন ব্যাংক পুনর্গঠন ও একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় আইনি কাঠামো কঠোরভাবে অনুসরণ না হলে ভবিষ্যতে আর্থিক খাতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।






