শাপলা চত্বর: ১৩ বছরের নীরবতা ভাঙার আহ্বান

জবি উপাচার্যের বক্তব্য—সত্য উদঘাটনে এখনই উদ্যোগ জরুরি, ইতিহাস জানার দাবি জোরালো।
শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘ ১৩ বছরের নীরবতা ভেঙে সত্য উদঘাটনের এখনই উপযুক্ত সময়,এমন মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন। তিনি বলেন, জাতিকে এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং এই ঘটনার প্রকৃত ইতিহাস সামনে আনা জরুরি।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত ‘শাপলা গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ।
উপাচার্য তার বক্তব্যে বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনাটি কেবল একটি রাজনৈতিক বা তাৎক্ষণিক ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি জাতির ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত হিসেবে রয়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ওই সময়কার রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় অনুভূতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে যারা সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন, তারা সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। এ ঘটনার সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মূল আলোচক হিসেবে শিক্ষক ও লেখক আলী হাসান উসামা ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করেন। তিনি
হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি, রাতের অভিযান এবং পরবর্তী পরিস্থিতি তুলে ধরে অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, ঘটনার পর পর্যাপ্ত প্রতিবাদ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এখনো নিহতদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ না হওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর যথাযথ খোঁজ না নেওয়া উদ্বেগজনক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, এই ঘটনা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।
তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম আরিফ।বক্তারা এ সময় সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরাচারী শক্তি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে,সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।






